• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

TIB demands effective measures to ensure governance and reduce corruption in climate finance

জলবায়ু প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের ঘাটতি ও দুর্নীতির ঝুকি মোকাবেলায়

কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান টিআইবি’র

ঢাকা৩ অক্টোবর ২০১৩: জলবায়ু প্রকল্প প্রণয়নঅনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সুশাসনের ঘাটতি ও দুর্নীতির ঝুকি চিহ্নিত করে এর প্রতিকারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকার এবং তহবিল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বাংলাদেশে জলবায়ু তহবিলের অগ্রগতিজলবায়ু তহবিলে বাস্তবায়িত সরকারি দু’টি প্রকল্পে সুশাসন পর্যবেক্ষণ এবং বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটিএফকর্তৃক বেসরকারি/এনজিও প্রতিষ্ঠান নির্বাচন এবং তাদের পরিচালিত তিনটি জলবায়ু প্রকল্পের কেস স্টাডির ভিত্তিতে প্রণীত টিআইবি’র এক গবেষণা প্রতিবেদনে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের ঘাটতি এবং দুর্নীতির ঝুঁকি চিহ্নিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি।

আজ সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নসুশাসনের চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যেজলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশ থেকে প্রাপ্ত অর্থের তুলনায় বাংলাদেশ জুন ২০১৩ পর্যন্ত ৬ ভাগের একভাগ অর্থ পেয়েছে। অন্যদিকে একই সময় পর্যন্ত জলবায়ু সংক্রান্ত সরকারি ও এনজিও/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে সুশাসনের ব্যাপক ঘাটতির চিত্র উদঘাটিত হয়েছে টিআইবি’র প্রতিবেদনে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন টিআইবি’র ক্লাইমেট ফিন্যান্স গর্ভনেন্স প্রজেক্ট (সিএফজিপিএর সহকারি প্রকল্প সমন্বয়ক (গবেষণামহুয়া রউফ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ডইফতেখারুজ্জামানউপ-নির্বাহী পরিচালক ডসুমাইয়া খায়েরসিএফজিপি’র সমন্বয়ক জাকির হোসেন খান এবং গবেষণা সহযোগী মাহফুজুর রহমান।

জলবায়ু অর্থায়নের সার্বিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে জানানো হয় যেজলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলো বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্রাটেজিক এ্যাকশন প্ল্যান (বিসিসিএসএপিপ্রণীত কর্মসূচী বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে প্রতি বছর ১ বিলিয়ন ডলার করে ৫ বছরে মোট ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থ প্রদানের কথা থাকলেও জুন ২০১৩ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে মাত্র ৫৯৪ মিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। উল্লেখ্যক্ষতিপূরণ বাবদ এনক্সভুক্ত দেশসমূহের একাংশের উদ্যোগে গঠিত বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্স ফান্ড (বিসিসিআরএফএর মাধ্যমে ১৭০ মিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুত অর্থের বিপরীতে জুন ২০১৩ পর্যন্ত ১৪৭ মিলিয়ন ডলার সহায়তা ছাড় করেছেযার মাধ্যমে ১১টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। অন্যদিকেসরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটিএফএর মাধ্যমে জলবায়ু খাতে ৩৪০ মিলিয়ন ডলারের মাধ্যমে ১৩৯টি প্রকল্প গৃহিত হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয় বিভিন্ন তহবিল থেকে প্রাপ্ত অর্থের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকারপল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় যা মোট তহবিলের ৩১.৯২ ভাগ। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ১১.৫৫ শতাংশ তহবিল পেয়েছে আলোচ্য সময়ে।

বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্বাধীন বিসিসিআরএফের অর্থায়নে বাস্তবায়িত জরুরি ২০০৭ ঘুর্ণিঝড় পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন প্রকল্পের সুশাসনের পর্যবেক্ষণ করে জানানো হয় যে আলোচ্য প্রকল্পে ‘ত্রুটিপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছেক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীদের সঠিকভাবে সম্পৃক্ত করা হয় নি। এই তহবিল বাস্তবায়নরত একটি প্রকল্পকে মাঠ পর্যায়ে ‘ঋণ সহায়তা’ প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঠিকাদার নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল এবং সরকারি ক্রয় আইন লংঘন করে ঠিকাদার কর্তৃক উপ-ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। বাস্তবায়ন পর্যায়ে দুর্বল কাজের মান জবাবদিহিতার ঘাটতির অভিযোগ এবং কাজের মান বজায়ে পর্যাপ্ত তদারকির ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়।

অন্যদিকে সরকারের বিসিসিটিএফ প্রকল্পের ‘ঢাকার রায়ের বাজার সংলগ্ন হাইক্কার খাল এবং নারায়ণগঞ্জের চারারগোপের সঞ্চিত পলিথিনসহ অন্যান্য বর্জ্য অপসারণ প্রকল্প পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদনে ২২.১৮ কোটি টাকার প্রকল্পে দুষণের উৎস বন্ধ না করেই প্রকল্প অনুমোদনরাজনীতিক ও ভূমি দস্যুদের প্রভাব এবং অব্যয়িত অর্থে অস্বচ্ছতার তথ্য উদঘাটিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকারি অর্থায়নের বিসিসিটিএফ এর ট্রাস্টি বোর্ড এনজিও/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব প্রদান করে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনকে (পিকেএসএফ)। উল্লেখ্য২০১১ সালে প্রস্তাব আহ্বানের পর ৫ হাজারের বেশি প্রকল্প প্রস্তাব থেকে ৫৩টি এনজিওকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করার পর এনজিও নির্বাচনে ত্রুটির অভিযোগ উঠায় তহবিল ছাড় স্থগিত করে বাতিলকৃত প্রস্তাবসহ মোট ১১৫টি প্রকল্পের পুনর্মূল্যায়ন শেষে পরবর্তীতে ৬৩টি এনজিওকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। এই ৬৩টি এনজিও’র মধ্যে টিআইবি’র প্রতিবেদনে ৫৫টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহপূর্বক একগুচ্ছ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয় আলোচ্য প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান শেষে ১০টি এনজিও’র অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নি১৩টি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী/পরিচালনা পর্ষদ রাজনীতির সাথে জড়িত এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে প্রকল্প প্রাপ্তির সংখ্যা ৯টি। মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি নিবন্ধন বাতিল করেছিল এমন প্রতিষ্ঠানও জলবায়ু তহবিলের প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ৫৫টি এনজিও’র মধ্যে মাত্র ১৭টি প্রতিষ্ঠান প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাপরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কাজে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। প্রতিবেদনে নির্বাচিত এনজিও কর্তৃক বাস্তবায়িত তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের সুশাসন পর্যবেক্ষণ করে সুশাসনের ঘাটতির নানাবিধ তথ্যের সন্ধান পেয়েছে টিআইবি’র গবেষকগণ।

জলবায়ু তহবিলের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জের আলোকে টিআইবি’র পক্ষ থেকে যে সকল সুপারিশ উত্থাপিত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জলবায়ু তহবিল বরাদ্দপ্রকল্প নির্বাচনঅনুমোদন এবং বাস্তবায়নের সকল পর্যায়ে সর্বোচ্চ তথ্যের উন্মুক্ততা নিশ্চিত করাপ্রকল্প তৈরীর পূর্বে অবশ্যই প্রকল্পের স্থায়িত্বক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মতামত বিবেচনায় আনাজলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনার সকল স্তরে সহজে অভিযোগ গ্রহণ এবং দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা। এছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রকল্প বাস্তবায়ন এর ক্ষেত্রে সুপারিশ গুলো হলো প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে পিকেএসএফকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ প্রদান করাপ্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য প্রকল্প নির্বাচন ও অনুমোদন প্রদানকারী কমিটির ছাড়াও একটি ওয়াচ্‌ডগ বডি থাকা;যোগ্যতা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে এনজিও নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় পরিমাণে তহবিল (এবং যথার্থ সময়প্রদান করা। সর্বোপরি জলবায়ু তহবিল ব্যবহারে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবের উর্ধ্বে থেকে যেকোন প্রকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

Media Contact