• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

Global Corruption Report on Education released: TIB calls for introducing integrity pledge in primary schools

টিআই এর ‘বৈশ্বিক দুর্নীতি প্রতিবেদন: শিক্ষা’ প্রকাশ

 প্রাথমিক শিক্ষায় সুশাসন নিশ্চিতে জন-সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও সততার অঙ্গীকারনামা প্রবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি

ঢাকা, ০১ অক্টোবর ২০১৩:দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শিক্ষাকে অন্যতম সহায়ক উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করে বিশ্বজুড়ে শিক্ষা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ব্যবসায়ী এবং সুশীল সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। আজ রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বৈশ্বিক দুর্নীতি প্রতিবেদন: শিক্ষা’ এর আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ন্টিারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় সুশাসন নিশ্চিতে জন-সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও সততার অঙ্গীকারনামা প্রবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষাক্ষেত্রে ঘুষ প্রদানের হার যেখানে ১৭ শতাংশ বাংলাদেশে তা ১২ শতাংশ। ভারতে যা ৪৮ শতাংশ, পাকিস্তানে তা ১৬ শতাংশ ও শ্রীলঙ্কায় ১৩ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ এন্ড পলিসি) মোহাম্মদ হোসেন। উল্লেখ্য, আজ বুদাপেষ্ট ও বার্লিন থেকে একযোগে এই বৈশ্বিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ প্রতিবেদনে শিক্ষা খাত কোন কোন ধরনের দুর্নীতির ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, দুর্নীতির আর্থিক মূল্য, শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির ধরণ এবং সবশেষে দুর্নীতি প্রতিরোধে একগুচ্ছ সুপারিশ; বিশেষ করে নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের প্রয়োগ, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় গণ-সম্পৃক্ততা ও নজরদারী ইত্যাদি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশের ১৪ শতাংশ জনগণ মনে করেন শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত বা উচ্চ মাত্রায় দুর্নীতিগ্রস্ত। ২০১২ সালে টিআইবি কর্তৃক পরিচালিত জাতীয় খানা জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্নীতির সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব শিক্ষা ক্ষেত্রে দৃশ্যমান এবং এটি স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। দুর্নীতির ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে যা সামাজিক বৈষম্যকে আরও প্রকট করছে। ঘুষ প্রদানের হার ২০০৭ সালে ৩৯ শতাংশ থেকে ২০১০ এ ১৫ শতাংশে এবং ২০১২ তে ১৪.৮ শতাংশে (জরিপকৃতদের অভিজ্ঞতার আলোকে) হ্রাস পেলেও শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির ফলে সেবাগ্রহীতার জন্য শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, অবনতি ঘটেছে শিক্ষার মানে এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে ২০১২ সালে শিক্ষাসেবা গ্রহণকালে প্রতি পাঁচজনের একজন ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং গরীবদের ক্ষেত্রে এই হার প্রতি তিনজনে একজন। বিশ্বজুড়ে শিক্ষাখাতের দুর্নীতির ব্যাপকতার তথ্য তুলে ধরে টিআই বলছে যুক্তরাষ্ট্রে একবার এক বিড়ালকে কলেজ ডিগ্রী দেয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় শিশুদের হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন শিক্ষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের এক পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভূয়া ডিগ্রী নিয়ে কাজ করার তথ্যও উদঘাটিত হয়েছে বৈশ্বিক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী শিক্ষা খাতের দুর্নীতির মধ্যে পড়ে নির্মাণ কাজে ক্রয় সংক্রান্ত অনিয়ম, ‘ছায়া বিদ্যালয়’ (কেবল পাকিস্তানে এই ধরনের ছায়া বিদ্যালয় আছে ৮০০০ এর উপরে), ‘ভূয়া শিক্ষক’ (ghost teacher), পাঠ্যবই ও লজিটিক্স এর জন্য নির্ধারিত সম্পদ সরিয়ে ফেলা, বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ঘুষের লেনদেন, অর্থের বিনিময়ে নম্বর পাওয়া, শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি এবং জাল ডিপ্লোমা প্রদান, বিদ্যালয়ের অনুদানের অপব্যবহার, অনুপস্থিতি, এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষা দানের পরিবর্তে প্রাইভেট পড়ানোয় সময় দেওয়া (দক্ষিণ কোরিয়ার খানাগুলো এজন্য প্রায় ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে যা ২০০৯ সালে দেশটির শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয়ের ৮০%)। এছাড়াও ‘বৈশ্বিক দুর্নীতির প্রতিবেদন: শিক্ষা’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতনকেও অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টিআইবি শিক্ষা খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যাতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সেজন্য বেশকিছু সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ধরণের একটি কার্যক্রম হল ত্রি-পক্ষীয় ‘সততার অঙ্গীকার’ এর মাধ্যমে। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নস্থ আলোকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলা হয় শিক্ষাসেবায় সততা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ফলে উক্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়ার হার হ্রাস, চূড়ান্ত ও পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার বৃদ্ধিসহ স্কুলটি ‘বি’ গ্রেড থেকে ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত হয়েছে।

বৈশ্বিক দুর্নীতির প্রতিবেদন: শিক্ষা’ তে শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সম্পদ ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করতে কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান প্রধান সুপারিশসমূহ হল - শিক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়সমূহের পক্ষ থেকে সবার আগে দুর্নীতিকে মান-সম্মত শিক্ষা এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্তরায় হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা; দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীলতা প্রদর্শন; শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বঃপ্রণোদিত হয়ে তথ্য প্রকাশ ও তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ, স্কুল ব্যবস্থাপনা বোর্ড, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য অংশীজনদের সততার অঙ্গীকারে আবদ্ধ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম উৎসাহিত করা।

Media Contact