• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

Collective actions emphasised to overcome governance challenges in primary education

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক পরামর্শ সভা

প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সম্মিলিত প্রয়াসের ওপর গুরুত্বারোপ

ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩: সকলের জন্য উন্নত ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুর্নব্যক্ত করে সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন এমপি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র আয়োজনে আজ রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক দিনব্যাপী এক পরামর্শ সভার সমাপনী পর্বে মন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অধিবেশনে আরো বক্তব্য রাখেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন ) জনাব মো. ফারুক জলীল। দিনব্যাপী দলীয় আলোচনার সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করেন টিআইবি’র উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষা খাতের মত বিশাল একটি খাতের চ্যালেঞ্জ বহুমুখী হতে বাধ্য। জাতীয় উন্নয়ন বাজেটের ১ শতাংশেরও কম প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রয়েছে। সম্পদের সীমাবদ্ধতা ছাড়াও মঞ্জুরীকৃত বিভিন্ন পদের বিপরীতে অনেক শূন্য পদ এখনো পূরণ করা যায়নি। শিক্ষকদের বেতন কাঠামোর বৈষম্য দূরীকরণের পদক্ষেপ এখনো বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পাঠ্যবই ছাড়াও চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ বৃদ্ধি এবং অত্যাধুনিক সরঞ্জাম প্রদানে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। অচিরেই এসকল ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” আজকের পরামর্শ সভায় উত্থাপিত বিভিন্ন সুপারিশ সরকার গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনাপূর্বক কার্যকর বাস্তবায়নের সর্বাধিক প্রয়াস নেবে বলে মন্ত্রী ঘোষণা দেন।

অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন. “প্রাথমিক শিক্ষার যদি কোন চ্যালেঞ্জ থাকে তা কিন্তু অন্যসব খাতের চ্যালেঞ্জের মতোই। এখানে দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাব একটি বড় সমস্যা। বিভিন্ন খাতে আমাদের যে জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে তা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।”

. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পাশাপাশি সুশাসনের যে সকল ঘাটতি রয়েছে তার নিরসনে জনগণকে সোচ্চার হতে হবে।”

উল্লেখ্য, দেশের ৪৫টি অঞ্চলে টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এবং ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) এর সদস্যরা প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বেইজ লাইন জরিপ, রিপোর্ট কার্ড জরিপ, জাতীয় খানা জরিপের অধীনে প্রাধমিক শিক্ষা খাতের ওপর জরিপ, ভ্রাম্যমাণ তথ্য ও পরামর্শ ডেস্ক কার্যক্রম, মা সমাবেশ, এসএমসি সভা এবং সততার অঙ্গীকারসহ বিভিন্ন সামাজিক জবাবদিহিমূলক কৌশল ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেবার মানোন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এই পরামর্শ সভায় ৪৫টি সনাকের শিক্ষা উপ-কমিটির সভাপতি ও প্রতিনিধি ছাড়াও সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক, এসএমসি’র প্রতিনিধিসহ ১৩০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন এবং তারা ৭টি দলে বিভক্ত হয়ে দিনব্যাপী দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে উদ্বোধনী পর্বে জেলা ও উপজেলা থেকে তথ্যের ভিত্তিতে প্রণীত একটি উপস্থাপনা পরিবেশন করেন টিআইবি’র গবেষণা কর্মকর্তা দিপু রায়। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষাখাতে কর্মরত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারগণও সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণ করেন।

দলীয় ও মুক্ত আলোচনা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে মানবসম্পদ, অবকাঠামো, প্রশাসনিক ও আর্থিক, সেবার মান ও কম্যুনিটির অংশগ্রহণের বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ উত্থাপিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: শিক্ষানীতি অনুসারে শিক্ষক শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৩০ করা; শিক্ষক পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের প্রভাব দূরীকরণ; সকল শূন্যপদ পূরণের মাধ্যমে সকল স্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ প্রদান; পদোন্নতির নীতিমালা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং সহকারি শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে মামলা নিরসন করা; প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতির বিধান রেখে নিয়োগবিধি সংশোধন করা; শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণী এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা প্রদান; প্রয়োজন অনুসারে মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ সুবিধা বৃদ্ধি করা; প্রতি উপজেলায় সরকারিভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সহায়ক ব্যবস্থা তৈরী করা; নির্মাণের ক্ষেত্রে মনিটরিং বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পলিসি তৈরী ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ। এছাড়া বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য বাজেট বা সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি করা; নারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্য ৮০ সিসির মোটর সাইকেল প্রদান; শিক্ষা খাতে সকল ধরনের মনিটরিং বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবলের নিয়োগ নিশ্চিত করা; এবং প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার তৈরীসহ অন্যান্য সুপারিশ উত্থাপিত হয়।

Media Contact