• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

TIB proposes for an election time government through the parliamentary consensus committee

সংসদীয় ঐকমত্য কমিটির মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার গঠণের প্রস্তাব টিআইবি

ঢাকা, এপ্রিল ১২, ২০১৩: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাচনকালীন সংসদীয় ঐকমত্য কমিটির মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের প্রাধান্য দিয়ে  নির্বাচনকালীন সরকার গঠণের একটি রূপরেখা প্রস্তাব করছে। আজ ব্র্যাক সেন্টার ইন্‌ এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা: প্রক্রিয়া ও কাঠামো প্রস্তাবনাশীর্ষক এক কার্যপত্র উপস্থাপন করে বলা হয় বর্তমান সংসদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত একটি সংসদীয় ঐকমত্য কমিটি প্রস্তাবিত নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানসহ অন্যান্য সদস্যদের তালিকা প্রণয়ন করবেন এবং সংসদের মেয়াদ অবসানান্তে রাষ্ট্রপতি উক্ত নির্বাচনকালীন সরকারকে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার আহ্বান জানাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ট্রাস্টি জনাব এম. হাফিজউদ্দিন খান ও নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। কার্যপত্র উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার রুমানা শারমিন। সম্ভাব্য সরকারের গঠণ প্রক্রিয়া, এখতিয়ার ও সকোর গঠণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিষয়গুলি তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। গুণগত গবেষণা পদ্ধতিতে প্রণীত উক্ত কার্যপত্রটিতে মুখ্য তথ্যদাতাদের সাক্ষাতকারসহ বিভিন্ন পরোক্ষ সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য সংগৃহীত ও বিশ্লেষিত হয়। 

ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং নেপালের নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার উল্লেখ করে কার্যপত্রে বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী আগামী সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে বলা হয় দলীয় সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যে ধরণের পারস্পরিক আস্থার পরিবেশের প্রয়োজন, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর চর্চা ও আচরণ তার জন্য অনূকূল নয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী ডকট্রিন অব নেসেসিটিতে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে কার্যপত্রে সংসদীয় ঐকমত্য কমিটির কাঠামো, গঠণ প্রক্রিয়া, কার্যক্রম এবং নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী সংসদীয় ঐকমত্য কমিটি ও নির্বাচনকালীন সরকার উভয় ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, “যেহেতু সমঝোতা ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়, সেহেতু পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে আস্থার পরিবেশ তৈরী করে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছে সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখতে হবে।

এম. হাফিজউদ্দিন খান বলেন, “সমঝোতার মনোভাব থাকলে নির্বাচনকালীন সরকারের ফর্মুলা বের করা কোন অসম্ভব বিষয় নয়। রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতা করতে আগ্রহী কিনা সেটাই মূল বিষয়। তাই রাজনীতিবিদদের খুব দ্রুত এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “প্রস্তাবিত সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকাই নির্ধারক, ফলে এই ব্যবস্থায় অনির্বাচিতদের হস্তক্ষেপের আশংকা দূরীভূত হবে। ঐকমত্য কমিটির মাধ্যমে প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী সকল পক্ষের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিবর্গ যারা নির্বাচন পরিচালনায় নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবেন তাদেরকে রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই বাছাই বা নির্বাচন করে নেবেন। তাই এই প্রস্তাবিত ব্যবস্থা সরকার ও বিরোধী উভয় দলের কাছেই গ্রহণযোগ্যতার দাবি রাখে।

সংসদীয় ঐক্যমত কমিটির কাঠামো:

কার্যপত্রের প্রস্তাবনায় বলা হয় বর্তমান সংসদের দুই জোটের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে উভয় জোট থেকে সমান সংখ্যক (চার - ছয় বা উভয় জোটের কাছে গ্রহণযোগ্য সংখ্যক) নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে এই সংসদীয় ঐকমত্য কমিটি গঠিত হবে। পরস্পরের প্রতি সহিষ্ণু, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, গ্রহণযোগ্য ও আস্থাভাজন জনপ্রতিনিধিকে এই কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিতে হবে। টিআইবির প্রস্তাবনা অনুযায়ী সংসদের স্পিকার কর্তৃক ঐক্যমত কমিটি গঠণের আহ্বানের পর রাজনৈতিক দলগুলো কমিটির সদস্য মনোনয়ন দেবে এবং এরপরই স্পিকার উক্ত কমিটির সভা আহ্বান করবেন। এই কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব।

সংসদীয় ঐকমত্য কমিটি নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানসহ ১১ সদস্যের তালিকা প্রস্থত করবে। তারা উভয় জোটের সাথে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য একজন নির্বাচিত বা অনির্বাচিত ব্যক্তিকে নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান হিসেবে মনোনীত করবেন। সংসদের মেয়াদ পূর্তির ৩০ দিনের আগেই এই নির্বাচনকালীন সরকারের সদস্যদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে যেন সংসদের মেয়াদ অবসান্তে রাষ্ট্রপতির আহ্বানের প্রেক্ষিতে উক্ত নির্বাচনকালীন সরকার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে।

টিআইবির প্রস্তাবনা অনুযায়ী সংসদীয় ঐকমত্য কমিটির সার্বিক সমন্বয় ও জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশের জন্য দুইজন যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হবেন যারা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রস্তাবনা অনুয়ায়ী নির্বাচনকালীন সরকার গঠণের সাথে সাথে উক্ত সংসদীয় ঐক্যমত কমিটি অকার্যকর হয়ে যাবে।

নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো:

টিআইবির কার্যপত্র অনুযায়ী দুইটি বিকল্প ধরে ঐকমত্য কমিটি নির্বাচিনকালীন সদস্যদের তালিকা প্রণয়ন করবেন। বিকল্প অনুযায়ী ঐক্যমত কমিটি প্রথমে নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান এবং তার সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে অন্যান্য ১০ জন সদস্যের তালিকা প্রস্তুত করবেন। বিকল্প অনুযায়ী কমিটি আলোচনার মাধ্যমে প্রথমে ১০ সদস্যের তালিকা প্রস্থত করবে এবং উক্ত ১০ জনের মধ্যে আলোচনার প্রেক্ষিতে একজনকে সরকার প্রধান হিসেবে মনোনয়ন দেবেন। একজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচিত বা অনির্বাচিত ব্যক্তি নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান হবেন। উল্লেখ্য, কমিটি কোন সরকার প্রধানের ব্যাপারে ঐক্যমতে পৌছাতে না পারলে ৩ জন ব্যক্তির একটি তালিকা স্পিকারের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণের পর উক্ত তালিকা থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে সরকার প্রধান নিযুক্ত করবেন। 

নির্বাচনকালীন সরকারে উভয় জোট থেকে মন্ত্রিসভার ১০ জন সদস্যের তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে টিআইবির কার্যপত্রে তিনটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। বিকল্প অনুযায়ী উভয় জোট থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিকল্প অনুযায়ী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও অনির্বাচিত বা নির্দলীয় ব্যক্তিবর্গ এবং বিকল্প অনুযায়ী শুধু অনির্বাচিত নির্দলীয় ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠিত হবে।

অন্যদিকে একই মন্ত্রিসভা গঠণের ক্ষেত্রে বিগত তিনটি নির্বাচনে প্রাপ্ত মোট ভোটের দলীয় অনুপাতের ভিত্তিতে সদস্য মনোনয়নের সূত্র তুলে ধরে টিআইবি বলেছে পূর্বের তিনটি বিকল্পের ক্ষেত্রেই এই আনুপাতিক হার প্রযোজ্য হবে।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্য থেকে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে উভয় জোটের কাছে গ্রহণযোগ্য, আস্থাভজান, পরমতসহিষ্ণু ইত্যাদি বিষয় বিবেচনার প্রস্তাব করেছে টিআইবি। অন্যদিকে অনির্বাচিত ব্যক্তি মনোনয়নের ক্ষেত্রে গ্রহনযোগ্য, জাতীয়ভাবে প্রশংসিত, সৎ, আস্থাভাজন, দক্ষ পেশাজীবি ও প্রশাসনিকভাবে দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের বিবেচনার প্রস্তাব করেছে টিআইবি।

টিআইবির প্রস্তাবনা অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকারের মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরবর্তী ৯০ দিন। তবে শুধু গুরুতর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় রাষ্ট্রপতির সাথে আলোচনা পূর্বক সংবিধানের ১০৬ অনুসারে আরো সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত উক্ত সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনকালীন সরকারের সদস্যরা ১০ম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বা দায়িত্ব পালন শেষে রাষ্ট্রের লাভজনক পদে অধিষ্টিত হতে পারবেন না। এই সরকার শুধু নির্বাচন সংক্রান্ত ও দৈনন্দিন প্রশাসনিক অপরিহার্য কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। মন্ত্রিসভার সদস্যদের সাথে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান মন্ত্রণালয় বণ্টনের বিষয়টি নির্ধারণ করবেন।

টিআইবি বলেছে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক ভূমিকার পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সরকারের শপথ গ্রহনের জন্য প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানাবেন; সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে বিতর্কের সমাধানে পরামর্শ দিবেন; উক্ত সরকারের মন্ত্রিসভার কোন সদস্যকে অপসারনের বা অর্ন্তভূক্তির ক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন সরকার প্রধানের সাথে পরামর্শক্রমে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটকে আহ্বান জানাবেন । প্রস্তাবিত নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো ও কার্যকমের সফল বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা চুক্তি এবং টিআইবির প্রস্তাব গৃহীত হলে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার উদোগ ও প্রয়োজনে এ ব্যাপারে গণভোটের ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে।

Media Contact