• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

TIB observes Global Earth Day, Bangla

সংবাদবিজ্ঞপ্তি

ভূমি ও পানি সম্পদের ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় টিআইবির ১৩ দফা দাবি

ঢাকা,শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১: ভূমি ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপণায় জড়িত সকলের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠাসহ ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আজ বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উদযাপনের অংশ হিসিবে টিআইবি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন  এবং পরে সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

ভূমি ও পানিসম্পদ ব্যবহারে চাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, চাই টেকসই জীববৈচিত্র, রক্ষা কর জীবন ও জীবিকাপ্রতিপাদ্যকে নিয়ে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরে সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “ভূমি প্রশাসন ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান দুর্নীতি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জনগণ মৈৗলিক অধিকার ও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ, রাজনীতিবিদ ও সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে একটি নেতিবাচক সংযোগ বা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা বিভিন্ন সরকারি খাসজমি ও নদ-নদী নামে বেনামে দখল করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছেন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত' দেশগুলোর শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের এ প্রভাব দৃশ্যমান হচ্ছে এবং পাশাপাশি নিম্ন আয় এবং জলবায়ু উদ্বাস্থদের প্রাপ্য সরকারি খাস জমি এবং জলাধার এক শ্রেণীর রাজনীতিবিদ, আমলা, ভূমি ব্যবসায়ীরা দখলের মহোৎসবে নেমেছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরার মতো প্রাকৃতিক দুূর্যোগের প্রকোপ ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে উপকূল অঞ্চলের মানুষ নিজ বাস্থভিটা  থেকে উচ্ছেদিত হচ্ছে এবং এ অঞ্চলের খাবার পানির উৎসসমূহে লবণাক্ততা বেড়ে সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, “পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের ভূুমি দখল ও নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন আর অপরিকল্পিতভাবে বনভূুমি ধ্বংস ও দখল এই প্রাকৃতিক দূর্যোগের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সাবধান বাণী উপেক্ষা করে সুন্দরবনের কাছে কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগের মাধ্যমে সুন্দরবনের স্থায়ী ক্ষতি সাধনের পথ উন্মোচিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ক্রমান্বয়ে সহায় সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন নদী, যেমন বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষা, মেঘনা ও বিভিন্ন খাল-বিল অবৈধভাবে দখল করে ভরাট করার ফলে পানির উৎস যেমন হারিয়ে যাচ্ছে, তেমনি জীববৈচিত্র্য বিশেষ করে মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র এবং অন্যান্য অনুজীবসমূহ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন শিল্প মালিক কর্তৃক বিভিন্ন নদী এবং জলাধারে আইন অমান্য করে এবং অবাধে রাসায়নিক বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে সার্বিকভাবে খাদ্যশষ্যে বিষক্রিয়া এবং জনস্বাস্থ্য প্রবলভাবে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে উল্লেখ করে টিআইবি এসকল সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করে। এগুলো হলো:

            ভূমি এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সকলের  জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে;

            ভূমি ও পানি সম্পদের উপর সকল নাগরিকের অধিকার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রকল্প বাস্তবায়নে নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে;

          পানি সম্পদকে উন্নয়ন ও জনগনের জীবনমান পরিবর্তনের লক্ষ্যে কার্যকর ভাবে ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে;

            সকল আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে সুন্দরবনসহ সকল প্রাকৃতিক সম্পদে টেকসই অস্তিত্বকে প্রাধান্য দিতে হবে:

            ভূমি ও পানি সম্পদে দখলদারিত্ব বন্ধ করতে হবে এবং ভূমি ও পানি সম্পদ খাতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বিশেষ করে দায়িত্বে অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে;

            পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন সহ অন্যান্য বনভূমি দখল ও নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন বন্ধ করতে হবে;

          অবৈধ ভূমি দখল যেমন কক্স্রবাজার সমুদ্র সৈকতের ভূমি অবৈধ ভাবে দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মান বন্ধ করতে হবে;

            সকল নাগরিকের জন্য পরিমাণ ও গুনগত মানসম্পন্ন পানির সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে;

            বিষাক্ত পদার্থ সরাসরি জলাধারে নির্গমনবন্ধ করতে হবে;

            শিল্পবর্জ্য নির্গমনের বিধিমালা প্রয়োগ এবং পানি দূষনকারীদের কাছে থেকে উল্লেখযোগ্য হারে জরিমানা আদায় করতে হবে;

            বিভিন্ন জলামহল ও নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে;

দ্রুত Detailed Area Plan (DAP) বাস্তবায়ন করতে হবে

গণমাধ্যমযোগাযোগ

রিজওয়ান-উল-আলম

পরিচালক

আউটরিচঅ্যান্ডকমিউনিকেশন

ফোন: ০১৭১৩০৬৫০১২

-মেইল: rezwan@ti-bangladesh