• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন এবং স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণে টিআইবি’র ৯ দফা সুপারিশ প্রস্তাবনা

জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন এবং স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণে টিআইবির ৯ দফা সুপারিশ প্রস্তাবনা

ঢাকা, সোমবার, এপ্রিল ৯, ২০১২: জলবায়ু অর্থায়ন ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় ৯ দফা সুপারিশ পেশ করে টিআইবি এই খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। আজ ঢাকায় ব্র্যাক সেন্টার ইন্ এ জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বিষয়ক নেটওয়ার্কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই আহ্বান জানানো হয়। জলবায়ু অর্থায়ন ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জলবায়ু প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে ক্লাইমেট ফাইনান্স গভর্নেন্স  (সিএফজি) নেটওয়ার্ক গঠিত হয়।

উদ্বোধনী অধিবেশনের সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি ও সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব এম হাফিজউদ্দিন খান, সদস্য, ট্রাস্টিবোর্ড, টিআইবি। সমাপনী অধিবেশনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. হাছান মাহমুদ, এমপি, মাননীয় মন্ত্রী, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, সমন্বয়ক, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটি। সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে জনাব সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, “সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, স্থানীয় জনগণ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের এবং এনজিওদের নিয়ে একটি জাতীয় মঞ্চ তৈরি করা দরকার যারা জলবায়ু তহবিলের আওতায় গৃহীত প্রকল্পে প্রকল্প  প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন ও এর প্রভাব মূল্যায়নে ভূমিকা রাখতে পারে। যাতে করে প্রতিটি স্তরে তহবিল ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তহবিলের সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত হয়।

তিনি আরো বলেন, “বর্তমানে প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগতভাবে কোনরূপ প্রভাব মূল্যায়ন করা হয় না, শুধু বরাদ্দ অনুযায়ী খরচের বিবরণ দাখিল করা হয়ে থাকে, তবে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রকল্পসমূহের একটি উন্মুক্ত নিরীক্ষা প্রয়োজন যেখানে বরাদ্দ অনুযায়ী খরচ ও তার কার্যকর প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে, যা সকল স্টেকহোল্ডারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতসহ কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রভাব মূল্যায়ন এবং সুুনির্দিষ্ট মানদ-ের আলোকে প্রকল্প প্রণয়নের নীতিমালা তৈরি করতে হবে। যেকোনো কাজে সততা ও স¦চ্ছতা অপরিহার্য বিষয়, সততা ও স্বচ্ছতা ছাড়া সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়নে মনিটরিং ব্যবস্থাপনা আরো বেশি জোরদার করা প্রয়োজন এবং এ ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধিরও প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরো বলেন, “রিজিলিয়েন্স ফান্ডের আওতায় অর্থায়ন কিভাবে হচ্ছে সেখানে স্বচ্ছতার বিষয়টিও আমাদের নজরদারির মধ্যে আনা প্রয়োজন।

প্রধান অতিথি ড. হাছান মাহমুদ, এমপি বলেন, “অনেক দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে প্রকল্পের অনুমোদনের কাজ করা হয় যাতে এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায় এবং সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রকল্প অনুমোদনে সুশীল সমাজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের অনেক দুর্বলতা রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুষ্ঠ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়গুলির মধ্যে আরো বেশি সমন্বয় ও নজরদারি প্রয়োজন। 

উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে এম. হাফিজউদ্দিন খান সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। এভাবে সকলকে আরো বেশি সক্রিয় হতে হবে।

টিআইবির উত্থাপিত ৯ দফা সুপারিশের মধ্যে জলবায়ু বিষয়ক প্রকল্প নির্ধারণে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের সুপারিশসহ সংশ্লিষ্ট আইনের পরিবর্তন, প্রকল্প প্রণয়নে ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী, স্থানীয় জনগণ ও সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আচরণবিধি প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে যা নি¤েœ উল্লেখ করা হল:

আইনী এবং নীতিগত

 

    বিদ্যমান জলবায়ু তহবিল আইনের পরিবর্তন করে প্রকল্প প্রণয়ন ও অনুমোদনে সুশীল সমাজ, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে হবে;

     সরকারি ক্রয় আইনের সংশোধন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের সকল পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্তদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে;

    স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আচরণবিধি প্রণয়ন ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের তা মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে;

     জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করণ

     প্রকল্প নির্বাচনসহ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে;

     বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন টিওআর/চুক্তি, কর্মপদ্ধতি এবং প্রকল্প সংক্রান্ত সব তথ্য উন্মুক্ত করতে হবে;

     প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রকল্প অনুমোদনের পূর্বে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে;

     জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনায় সহজে অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তিসহ জলবায়ু ন্যায়পাল নিয়োগ করতে হবে:

    প্রকল্প বাছাই এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের উর্ধ্বে বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করতে হবে এবং অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।  

      সক্ষমতা বৃদ্ধি

    শীঘ্রই সিসিইউতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, বিসিসিআরএফ সচিবালয় গঠন, তহবিল বরাদ্দ এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষমতা প্রদান করতে হবে।

Media Contact