• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ

রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ;

বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সংলাপ ও হরতাল সংক্রান্ত আচরণবিধি প্রণয়নের আহ্বান টিআইবি’র

ঢাকা, ১২ মার্চ, ২০১৩: রাজনৈতিক অঙ্গনে সংঘাতের ও সহিংসতার ক্রমবৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বৃহৎ দুটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রতি সংঘাতের পথ পরিহার করে অনতিবিলম্বে সংলাপের সূচনার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,‘‘ক্রমবর্ধমান সংঘাত, বিশৃঙ্খলা এবং উচ্ছৃঙ্খলতা গভীর উদ্বেগজনক, দুঃখজনক এবং যে কোন মানদণ্ডেই অগ্রহণযোগ্য। এ সকল ঘটনার মূলে রয়েছে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব যেখানে জনস্বার্থ এবং নাগরিকের জীবন ও জীবিকার মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে শিশু, নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও পশ্চাদপদ অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার এবং নিরাপত্তা কোন বিবেচ্য বিষয় নয়। এই নেতিবাচক, সংঘাতময় ও আত্মঘাতী রাজনৈতিক খেলা বন্ধ করে সংযম ও গণতান্ত্রিক আচরণে ফিরে আসতে ব্যর্থ হলে তা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ক্ষেত্রে বড়  ধরণের ঝুঁকি তৈরি করবে।”

আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি  গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক সংঘাতমূলক সহিংস এবং আগ্রাসী রাজনৈতিক খেলার পরিণতির কথা সি'রচিত্তে বিবেচনা করার আহ্বান জানাই। আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে, দুই বৃহত্তম দলের অবিসংবাদিত নেতা, জনগণের পক্ষে, জনস্বার্থেই রাজনীতিতে জড়িত। অতএব, মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতাই পারেন জনগণের তথা জাতীয় স্বার্থকে পারস্পরিক বিভেদ, দ্বন্দ্ব ও আস্থাহীনতাসহ সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে সংঘাতময় অবস্থান থেকে সরে এসে গণতান্ত্রিক আচরণের দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচনার টেবিলে সমাধান বের করতে।

গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি অঙ্গীকার প্রদর্শনে সংলাপ শুরু করার ক্ষেত্রে কালক্ষেপণের কোন সুযোগ নাই। আর গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় যে কোন ধরণের ঝুঁকি এড়াতে সংলাপের কোন বিকল্প নেই।”

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, অগণতান্ত্রিক ভাষা এবং আচরণের কাছে রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমান্বয়ে কুক্ষিগত হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক এবং এর ফলে তা জনগণের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে বিশেষত: তরুণদের কাছে, যারা যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির সার্বজনীন দাবীতে কী করে শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করা যায় তা শাহবাগ তথা সারাদেশে দৃষ্টান্তমূলকভাবে প্রদর্শন করছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহিংস পদ্ধতির অবসানে ব্যর্থ হলে তা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় কঠোরতম প্রতিবন্ধক হিসেবে আবির্ভূত হবে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিদ্যমান দ্বন্দ্বের মূলে যেহেতু রয়েছে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, সেহেতু সেই নির্বাচন যেন উভয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে পারে তার জন্য সমঝোতামূলক অবস্থান নিরূপণে  আমরা দুই নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানাই।

বিবৃতিতে বলা হয়, পারস্পরিক বিদ্বেষ এবং অবিশ্বাস অবসানের উপায় দুই নেত্রীর হাতেই রয়েছে বিধায় সামগ্রিক সমাধান তাদেরকেই  বের করতে হবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,‘‘রাজনৈতিক প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে হরতালের অধিকার অপপ্রয়োগের কারণে জনজীবনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাসহ মৌলিক অধিকার যেন ব্যাহত না হয় সেজন্য আইনী বাধ্যবাধকতামূলক একটি হরতাল সংক্রান্ত আচরণবিধি গ্রহণ ও প্রয়োগের জন্য আমরা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানাই।”  

Media Contact