• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

Demands raised to ensure transparency and accountability of the water sector (Bangla)

বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে টিআইবি সহ বিভিন্ন সংগঠনের মানব বন্ধন

নদী ও জলাশয়ের দূষণ ও দখল রোধে নয় দফা দাবি উত্থাপিত

ঢাকা, ২৫ মার্চ ২০১৩: বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক মানব বন্ধনে আজ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সহ বিভিন্ন সংগঠন দেশের নদী জলাশয়ের সুরক্ষা এবং দূষণ ও দখল রোধে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে। ২২ মার্চ  বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে টিআইবি, বাংলাদেশ ওয়াটার ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্ক (বাউইন), ক্লাইমেট ফাইন্যান্স গভার্নেন্স নেটওয়ার্ক (সিএফজিএন), বাংলাদেশ ওয়াটার পার্টনারশীপ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ এর আয়োজনে এ মানব বন্ধনটি আজ সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হয়।

মানব বন্ধনে বক্তারা জানান, এশিয়ার ৪৯টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে অবস্থানকারী ৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ১৯৯৯ সালে প্রণীত বাংলাদেশের জাতীয় পানি নীতিতে ভূ-উপরিভাগের পানির যৌথ ব্যবহারের উপর জোর দেয়া হলেও শুধুমাত্র ভূ-গর্ভস' পানির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে পানি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরী করবে বলে মানববন্ধনে জানানো হয়।

নদী-জলাশয় সুরক্ষা একসাথে, এখনই, দূষণ ও দখল রোধে চাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাএ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “প্রশাসনিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রভাবের কারণে পানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভবপর না হওয়ায় জাতীয় স্বার্থ ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং দখল ও দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।

মানববন্ধনে যে নয় দফা দাবি উত্থাপিত হয় সেগুলো হলো:

১.হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু ও ধলেশ্বরী নদীর ভেতরে ওয়াকওয়ে ও সীমানা খুঁটি বসানো বন্ধ করে স্থায়ীভাবে নদীর প্রকৃত সীমা নির্ধারণ;

২.পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত ও পানি সম্পদ রক্ষায় জাতীয় পানি নীতির (১৯৯৯) দ্রুত বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়-ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও তার পরিবীক্ষণ নিশ্চিত করা;

৩.ক্ষমতাবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী কর্তৃক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে নদী, হাওর-বাওর, খাল-বিল, হ্রদ, জলাশয় ও জলমহালসমূহের বেআইনী দূষণ ও দখল বন্ধে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা;

৪.পানিসম্পদ কেন্দ্রিক সব ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের অধিকার এবং অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা;

৫.পানির উৎসসমূহের দূষণ ও দখল রোধে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ;

৬.দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এক্ষেত্রে নতুন ধারণা এবং উদ্ভাবনকে প্রণোদনা প্রদান;

৭.দূষণ প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যমে প্রচারণা সহ বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন;

৮.শিল্পবর্জ্য নির্গমনের বিধিমালার কঠোর প্রয়োগ এবং পানি দূষণকারীর কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান হারে জরিমানা আদায় (Polluter-pays principle) নিশ্চিত করা; এবং

৯.পশুর নদীর তীর থেকে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান সরিয়ে তা পরিবেশের জন্য নিরাপদ স্থানে স্থাপন।  

Media Contact