• header_en
  • header_bn

টিআইবি সদস্যদের ‘বার্ষিক সভা ২০১৮-১৯’ সদস্যদের বার্ষিক সভার ঘোষণা

 
টিআইবি সদস্যদের ‘বার্ষিক সভা ২০১৮-১৯’
সদস্যদের বার্ষিক সভার ঘোষণা
০৭ নভেম্বর ২০১৯
 
আমরা টিআইবি’র সদস্য হিসেবে ‘বার্ষিক সভা ২০১৮-১৯ - এর সমাপ্তিতে সম্মিলিত ঘোষণা করছি যে, আমরা দুর্নীতিকে সর্বান্তঃকরণে ঘৃণা করি, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে দুর্নীতি থেকে বিরত থাকতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে একক ও সমষ্টিগতভাবে দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে প্রতিরোধের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিনড়ব ক্ষেত্রে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও বেগবান ও কার্যকর করতে আমরা একযোগে কাজ করতে সচেষ্ট ও সক্রিয় থাকবো। আমরা আমাদের বিবেককে চির জাগ্রত রেখে অন্য সকলের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতি প্রতিরোধে উদ্বুদ্ধ করবো।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান শুদ্ধি অভিযানের আরো ব্যাপকতার আহ্বান জানাই
ক্ষমতাসীন ছাত্র ও যুবনেতৃবৃন্দের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি গৃহীত পদক্ষেপের ফলে দুর্নীতির যে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে তা হতাশাব্যঞ্জক হলেও মূলত রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও রাজনৈতিক পরিচয়ে দুর্নীতির শেকড় যে আরো গভীরতর ও ব্যাপকতর তার পরিচায়ক। রাজনীতি, ব্যবসা, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাংশের দুর্নীতিবান্ধব যোগসাজস সমাজের সকল পর্যায়ে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করছে। ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’মর্মে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বাস্তবেই কাউকে ছাড় না দিয়ে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে যেকোনো পর্যায়ের অবস্থান ও পরিচয়ে প্রভাবান্বিত না হয়ে, সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানে বিভিনড়ব প্রক্রিয়ায় এ ধরণের অনিয়মে জড়িত সকলকে জবাবদিহিতা ও আইনের আওতায় এনে, দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর পেশাগত শুদ্ধাচার, নিরপেক্ষতা ও উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানাচ্ছি।
অনিয়ম, দুর্নীতি ও সহিংসতা মুক্ত শিক্ষাঙ্গণ চাই
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একের পর এক রক্তক্ষয়ী ছাত্র সহিংসতা, ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম, দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবদুষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতা এবং একই কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যত নিষ্ক্রিয়তার ফলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী আদর্শিক ছাত্র আন্দোলনের অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি। শিক্ষাঙ্গণে সংঘটিত সকল হত্যাকান্ড ও সহিংসতার দৃষ্টান্তমূলক ন্যায়বিচারসহ সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার এবং সকল ছাত্রসংগঠনসহ শিক্ষাঙ্গণকে সম্পূর্ণ দলীয় রাজনীতিমুক্ত করার দাবি জানাই। ছাত্রসংগঠনের পাশাাপাশি, শিক্ষাঙ্গণের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনের দলীয় রাজনীতি বন্ধে কঠোর উদ্যোগ নেয়ার এবং সকল ধরণের দলীয় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও যোগসাজেশ বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিজ উদ্যোগে ছাত্রসংগঠন বিকশিত হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করার আহ্বান জানাই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিনড়ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সকল প্রকার নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা এবং উত্থাপিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় ন্যায় বিচার নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাই। পাশাপাশি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নীরবে শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার (বুলিইং) শিকার হবার ঘটনা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে উদ্বেগ জানিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে সংযুক্ত সব পক্ষকে নিয়ে এর বিরুদ্ধে একটি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।
সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা, চাই ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ এর কঠোর বাস্তবায়ন
সড়ক পরিবহন খাতে সীমাহীন বিশৃঙ্খলা, কালো টাকার প্রভাব, পেশিশক্তির ব্যবহার, পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের অবাধ নৈরাজ্য বন্ধে চাই ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ এর কঠোর প্রয়োগ। সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলা নৈরাজ্যের মুখে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে নিরাপদ সড়কসহ এ খাতে জবাবদিহি, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের দাবিতে শিশু-কিশোর ও তরুণ শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে সরকার ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ পাশ করলেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বাধার মুখে এক বছরেরও বেশি সময় পরে তা অতি সম্প্রতি কার্যকর হয়েছে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের গোষ্ঠীগত অন্যায্য চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে আইনটির কঠোর বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাই। একইসাথে, সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় সুশাসন ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উনড়বয়নে ও দুর্ঘটনারোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে আইনটির যথাযথ বাস্তবায়নে অনতিবিলম্বে এর বিধিমালা প্রণয়ন এবং তরুণ প্রজন্মসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানাই।
দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে চাই কার্যকর দুর্নীতি দমন কমিশন
দুর্নীতি উনড়বয়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম অন্তরায় বিধায় দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর করতে সরকার, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগ শক্তিশালী করার আহ্বান জানাই। বর্তমান সরকারের ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা’ ঘোষণা এবং টেকসই উনড়বয়ন অভীষ্টের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর কার্যকরতা বৃদ্ধির দাবি জানাই। একইসাথে ঘুষ, অনোপার্জিত আয়, কালোটাকা, চাঁদাবাজি, ঋণখেলাপি, টেন্ডারবাজি ও পেশিশক্তি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি। দুর্নীতিবিরোধী জাতিসংঘ কনভেনশনের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে দেশ থেকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ, পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা ও পাচারকারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সকল সুযোগ সদ্ব্যবহারের দাবি জানাচ্ছি। দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি বিনা অপরাধে কাউকে হয়রানি না করার এবং কাউকে হয়রানি করা হলে তার যথাযথ প্রতিকারের দাবি জানাচ্ছি।
চাই আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভ‚ত সংকটের সাথে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় লালিত বেসরকারি ব্যাংকের নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি। অর্থ পাচারের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কোন পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। এরই মধ্যে ঋণখেলাপীদের নতুন করে বিভিনড়ব ধরণের সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে, যার বোঝা সাধারণ জনগণের ওপর পড়তে বাধ্য। সম্প্রতি খেলাপি ঋণ ও ব্যাপক অনিয়মে জর্জরিত ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের লক্ষ্যে ব্যাংকিং কমিশন করার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক, কিন্তু বহুল প্রত্যাশিত কমিশনটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে গঠন করা হলে তা একটি অর্থহীন ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত হবে। কেননা স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে এধরনের কমিশন কর্তৃক নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে ব্যাংকিং পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং কার্যকর সুপারিশ প্রণয়ন সম্ভব হবে না। এমন পরিস্থিতি এড়াতে সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি কমিশন গঠনের আহ্বান জানাই যেটি ব্যাংকিং খাতের সব ধরনের অনিয়ম, ঋণখেলাপি, জালিয়াতি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করতে পারবে।
জাতীয় উন্নয়নে চাই স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ ও পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীলতা
উনড়বয়ন জনগণের জন্য, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য। জনস্বার্থে ও জনগণের অর্থে পরিচালিত অবকাঠামোগত বিভিনড়ব উনড়বয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিশদ তথ্য স্বপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। বিশেষ করে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় জলবায়ু তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসহ সকল উনড়বয়ন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট নাগরিক ও সকল অংশীজনের অভিমত, অধিকার ও অংশগ্রহণকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানাই। এছাড়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সকল প্রকল্প বাতিল এবং ভবিষ্যতে যেকোনো উনড়বয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব যাচাই নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। বিশেষ করে কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুত প্রকল্পের আগ্রাসী বিকাশের আত্মঘাতী পথ পরিহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানী খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছি।
চাই তথ্যের অধিকার, অবাধ তথ্য প্রবাহ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা
অবাধ তথ্য প্রবাহ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্র ও সুশাসনের পূর্বশর্ত এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের অন্যতম সহায়ক হাতিয়ার। টেকসই উনড়বয়ন অভীষ্টের সাথে সংগতি রেখে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন ২০১১ এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য আমরা সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি। বাক-স্বাধীনতা, মত ও তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিপন্থী সকল আইন ও বিধিমালা বিশেষ করে ফরেন ডোনেশনস (ভলেন্টারি অ্যাক্টিভিটিস) রেগুলেশন অ্যাক্ট এর ১৪ ধারা, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ৩২ ধারাসহ এসব আইনের অন্যান্য নিবর্তনমূলক ধারাসমূহ বাতিল করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা দেশের নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। গণমাধ্যমের ওপর করপোরেট প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ দুর করার জন্য সকল অংশীজনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য দুর্নীতির তথ্য প্রকাশে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
তৃণমূলে চাই কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা
স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভ‚মি, স্থানীয় সরকারসহ অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আমরা কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা চাই। এর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে শুদ্ধাচার চর্চার পাশাপাশি দুদকসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনের পক্ষ থেকে আমরা কার্যকর পরিবীক্ষণ ও তদারকির দাবি জানাই। আমরা চাই এসব প্রতিষ্ঠান ও খাতের জন্য চাহিদা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ, জনবল ও অন্যান্য আবশ্যকীয় বিষয় নিশ্চিত করা হোক। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্থানীয় কমিটিগুলোকে আমরা আরও সক্রিয় ও কার্যকর দেখতে চাই।
সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য চাই আইনের শাসন
বিচার-বহির্ভূত হত্যাকান্ড গুম, অপহরণ, ধর্ষণ ও গণধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ দমনসহ দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উনড়বয়নে আরও সচেষ্ট হওয়ার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি। এক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষ ও সকল প্রকার প্রভাবমুক্ত হয়ে পেশাদারিত্বের সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। যেকোনো অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার সাথে জড়িত সকল দোষী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। মনে রাখতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সাম্প্রতিককালে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরত আসা নির্যাতনের শিকার নারী শ্রমিকদের প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কাজনক চিত্রের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তপৃ ক্ষকে অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাই। নারী ও শিশুসহ সকল সুবিধাবঞ্চিতের ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে দেশের আপামর জনগণ, বিশেষ করে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী, তৃতীয় লিঙ্গসহ পরিচয়-নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে আরও সক্রিয় ও সচেষ্ট হতে সরকার, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম, বেসরকারি সংস্থাসহ সকল অংশীজনের প্রতি আহ্বান জানাই।
চাই সকল স্তরে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানের বিকাশ
টেকসই উনড়বয়ন অভীষ্টের পূর্বশর্ত হিসেবে জাতীয় সততা ব্যবস্থার সকল প্রতিষ্ঠান, যাদের ওপর জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন এবং আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক সরকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে তাদের, বিশেষ করে- প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার দাবি করছি, যেন তারা স্বাধীন ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
চাই ন্যায্য, সুশাসিত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ
আমরা মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে সততা, মূল্যবোধ, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহি ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার মাধ্যমে সকল প্রকার শোষণ ও বৈষম্য অবসানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে গণতন্ত্র, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে একযোগে কাজ করা, নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঠেকাতে স্কুল পর্যায়ে নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার জন্য আহ্বান জানাই। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, সুশাসন এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ, লিঙ্গ, আদিবাসী, বাঙালি, প্রতিবন্ধী বা অন্য যেকোনো পরিচয় নির্বিশেষে সকল মানুষের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি। নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। আমরা চাই ন্যায়ভিত্তিক, সুশাসিত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।
সর্বোপরি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের সোচ্চার ভ‚মিকা পালনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যার দায়িত্ব সরকারের ওপর। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা’ ঘোষণায় আমরা সাধুবাদ ও অভিনন্দন জানাই। তবে অন্যদিকে বাক-স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার সুযোগ সৃষ্টিকারী আইনি ধারাসমূহ এখনো বাতিল বা সংস্কারের পদক্ষেপ না নেয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সর্বোপরি আমরা বাক-স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে জনগণের সোচ্চার হওয়ার মত পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।
 
ডাউনলোড করার জন্য এখানে ক্লিক করুন
 
*********