• header_en
  • header_bn

সনাক-চট্টগ্রাম মহানগর এর উপদেষ্টা শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী এর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত

সনাক-চট্টগ্রাম মহানগর এর উপদেষ্টা শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী এর মৃত্যুতে

আমরা গভীরভাবে শোকাহত

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ - টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), চট্টগ্রাম মহানগর এর উপদেষ্টা    পরিষদের সদস্য শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী (জন্ম: ১৫ জানুয়ারি ১৯৩৮) এর মৃত্যুতে টিআইবি পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। বেগম মুশতারী শফী ২০ ডিসেম্বর ২০২১ রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল ০৫টা ১০মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি কিডনি ও রক্তে সংক্রমণসহ নানা রোগে ভুগছিলেন।

 

বেগম মুশতারী শফী ১৩ জুলাই ২০০৫ হতে সনাক - চট্টগ্রাম মহানগর এর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন এর অংশ হিসাবে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) গঠনকালে বেগম মুশতারী শফী প্রতিষ্ঠাতা আহŸায়কের দায়িত্ব পালন করেন। 

 

দেশের বরেণ্য সাহিত্যিক, নারীনেত্রী, শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুর জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৪৯ সালে দৈনিক আজাদ প্রত্রিকায় মুকুলের মাহফিলে ছোটগল্প লেখার মধ্য দিয়ে তাঁর লেখালেখির সূচনা। তিনি তাঁর লেখায় সমাজের নিরেট সত্য গভীর সংবেদনশীল ফুটে তুলেছেন। নারী অধিকার আদায় ও সুরক্ষার জন্য দীর্ঘদিন কাজ করছেন মুশতারী শফী। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের নারী, চিঠি, জাহানারা ইমামকে ও স্বাধীনতা আমার রক্তঝরা দিন মুশতারী শফীর উল্লেখযোগ্য রচনা।

 

তিনি মুক্তিযুদ্ধে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী একজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। ষাট দশকের প্রথমভাগে মুশতারী শফী নারীমুক্তি আন্দোলনের লক্ষ্যে নিজ উদ্যোগে ‘বান্ধবী সংঘ’ নামে চট্টগ্রামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সংঘের মুখপাত্র হিসেবে ১৯৬৪ সাল থেকে এক নাগাড়ে ১০ বছর মাসিক বান্ধবী পত্রিকা সম্পাদনা করেন এবং ১৯৬৯ সালে সম্পূর্ণ মেয়েদের দ্বারা পরিচালিত বান্ধবী’র নিজস্ব ছাপাখানা ‘মেয়েদের প্রেস’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী এই প্রেস ধ্বংস করে দেয়। মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র বাসায় রাখায় ১৯৭১ সালের ৭ এপ্রিল তাঁর স্বামী ডা. মোহাম্মদ শফী এবং ভাই এহসানুল হক আনসারীকে স্থানীয় রাজাকাররা ধরে নিয়ে যার। পরে তাদের হত্যা করে পাকিস্থানি সেনাবাহিনী।

 

মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভ‚মিকার জন্য ২০১৬ সালে বাংলা একাডেমি শহীদজায়া মুশতারী শফীকে ফেলোশিফ প্রদান করে। ২০২০ সালে তিনি বেগম রোকেয়া পদক অর্জন করেন। তিনি শিক্ষাসহ সমাজের নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি চার কন্যা ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী’র অবদান আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে। টিআইবি’র সাধারণ পর্ষদ, ট্রাস্টি বোর্ড, কর্মী, দেশের ৪৫টি এলাকার সনাক, স্বজন, ইয়েস, ইয়েস ফ্রেন্ডস, ঢাকা ইয়েস, ওয়াইপ্যাক - এর সদস্যসহ সকলের পক্ষ থেকে আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।