• header_en
  • header_bn

জনগণের মুখোমুখি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থীরা: স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং নাগরিকবান্ধব সিটি কর্পোরেশন গড়ার অঙ্গীকার

মঞ্চে মেয়র প্রার্থীসহ অতিথিবৃন্দটিআইবি’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চট্টগ্রাম মহানগর এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর যৌথ উদ্যোগে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে ১৯ এপ্রিল ২০১৫ চট্টগ্রামের মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে ‘জনগণের মুখোমুখি মেয়র প্রার্থী’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সিটি কপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদের প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম মহানগরকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং নাগরিকবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। মেয়র প্রার্থীরা তাঁদের ভবিষ্যত কর্মসূচি উপস্থিত ভোটারদের সামনে তুলে ধরেন এবং নগরবাসীর বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। প্রার্থীরা পরাজিত হলে ফলাফল মেনে নেয়া এবং কর্পোরেশনের উন্নয়নে বিজয়ী প্রার্থীকে সহযোগিতা করাসহ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য উদ্যোগ গ্রহণেরও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সনাক, চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুজন সম্পাদক ও সাবেক সনাক সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুজন-এর কেন্দ্রীয় সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, টিআইবি’র সিভিক এনগেইজমেন্ট ডিভিশনের পরিচালক উমা চৌধুরী এবং সুজন চট্টগ্রামের সভাপতি প্রফেসর মো. সিকান্দার খান। অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের অঙ্গীকারপত্র পাঠ করেন সনাক-এর স্থানীয় সরকার বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া।
টিআইবি’র সিভিক এনগেইজমেন্ট ডিভিশনের পরিচালক উমা চৌধুরী বলেন, ‘‘মেয়র প্রার্থীরা সৎ সাহস দেখিয়ে জনগণের মুখোমুখি হয়েছেন। নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীরা যখন স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্ন দলের বা নিজের জন্য না হয়ে যেন জনগণের স্বপ্ন হয় এবং জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যেন জনগণের সেই স্বপ্ন পূরণে কাজ করেন।’’ তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকের বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। নিজেকে বিবেকের কাছে আগে জবাবদিহি করতে হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন নিজের যোগ্যতার দ্বারা। জনগণের মুখোমুখি হয়ে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্বাচিত মেয়র নিজেকে প্রমাণ করবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়াও তিনি ভোটারদেরকে জেনে, শুনে ও বুঝে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সৎ, যোগ্য এবং জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘‘স্থানীয় সরকারগুলোতে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত না হওয়ার ফলে জনগণ চাহিদামাফিক নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে প্রার্থীদের কয়েকটি তথ্য যাচাই করে প্রার্থী সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে শুনে ভোট দিতে হবে।’’ তিনি নাগরিকদের ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সৎ, যোগ্য ব্যক্তি এবং যিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন সেই প্রার্থীকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান।
সনাক সভাপতি প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও কয়েকজন মেয়র প্রার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করা বিষয়ে বলেন, যাঁরা নির্বাচিত হওয়ার আগেই জনগণের মুখোমুখি হতে আগ্রহ দেখান না তাঁরা নির্বাচিত হওয়ার পরে কীভাবে জনগণের মুখোমুখি হবেন। তিনি বলেন, যাঁরা জনগণের জন্য কাজ করবেন তাঁরা অবশ্যই জনগণের মাঝে থাকবেন এবং জনগণের মুখোমুখি হবেন।
অনুষ্ঠানে মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এম এ মতিন, ওয়াইয়াজ হোসেন ভূঁইয়া, গাজী মো. আলাউদ্দিন, মুজিবুল হক শুক্কুর এবং সৈয়দ সাজ্জাদ জোহা। ভোটাররা মেয়র প্রার্থীদের কাছে সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, সাম্প্রদায়িতকা ও জঙ্গীবাদ নিরসন, নারী শিক্ষার অগ্রগতি এবং সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তি নির্মূলে ব্যবস্থা নেয়া, ছিন্নমূল মানুষের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ, নগরীর যানজট নিরসন, ফুটপাত অবৈধ দখল মুক্ত করা ইত্যাদি বিষয়ে তাঁদের পরিকল্পনা জানতে চান। অনুষ্ঠানে মেয়র প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে জনবান্ধব সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠায় ১৩ দফা দাবি সংবলিত অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন। একইভাবে উপস্থিত নাগরিকরাও সঠিকভাবে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার শপথ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক ভোটারের মধ্যে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তথ্যাবলী এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের পূর্বে ভোটারদের করণীয় বিষয়ক প্রচারপত্র বিলি করা হয়।