• header_en
  • header_bn

Oath to build a Terrorism & Corruption free City in Sylhet

জনগণের মুখোমুখি সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীরা: সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত নগর গড়ার অঙ্গীকার

টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সিলেট এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে গত ৮ জুলাই নগরের সিলেট অডিটোরিয়ামে মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে ‘যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদের প্রধান দুই প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচিত হলে সিলেট নগরকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত নগরবাসীর বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী। সনাক সিলেট এবং সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন টিআইবি’র সিভিক এনগেজমেন্ট ডিভিশনের পরিচালক উমা চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীরা যখন স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্ন জনগণের স্বপ্ন। তাই জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যেন জনগণের সেই স্বপ্ন পূরণে কাজ করেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রত্যেকের বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। নিজেকে বিবেকের কাছে আগে জবাবদিহি করতে হবে। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন নিজের যোগ্যতার দ্বারা। জনগণের কাছে দেয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্বাচিত মেয়র নিজেকে প্রমাণ করবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার কোন সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও অসৎ ব্যক্তিকে অন্ধবিশ্বাসে ভোট দিয়ে নির্বাচিত না করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক বলেন, বিগত দিনে নগর উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আমি অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছি। কিন্তুসে সময় তৎকালীন মেয়র কামরান সাহেবের সহযোগিতা পেলে আরও উন্নয়ন করতে পারতাম। নির্বাচিত হলে নগরকে পর্যটন নগরে পরিণত করবো। এছাড়া সকল অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করবো। বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, প্রবল বর্ষণ ও বৃষ্টির কারণে নগরে জলাবদ্ধতা হয়, সেটা অস্বীকার করব না। তবে আমি মেয়র থাকাকালে ছড়া ও খাল জবরদখল থেকে উদ্ধার করে খনন করে সীমানা প্রাচীর তৈরি করেছি। এতে জলাবদ্ধতা অনেকটা কমে গেছে। আবারও নির্বাচিত হলে তিনি জনগণের কাছে করা অঙ্গীকারসমূহ বাস্তবায়নে কাজ করবেন বলে জানান। এছাড়া তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের হোল্ডিং ট্যাক্স ও পানির কর এর আওতামুক্ত রাখবেন বলেও অঙ্গীকার করেন। এছাড়া দুই মেয়র প্রার্থীই নগরকে পর্যটন নগরী ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। উভয়েই নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা মেনে চলা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান বিষয়ে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন। একইভাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত নাগরিকরাও সঠিকভাবে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার শপথ করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুজনের সমন্বয়কারী দিলীপ সরকার। অঙ্গীকারনামা পাঠ করেন সনাক-এর সদস্য সৈয়দ মনির হেলাল। অনুষ্ঠানে মেয়র প্রার্থীদের তথ্যাবলী সংক্ষেপে তুলে ধরেন সনাক, সিলেট-এর ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপের সদস্য দেবাশীষ।

 

অনুষ্ঠান শেষে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, সনাক সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী এবং টিআইবি’র সিভিক এনগেজমেন্ট ডিভিশনের পরিচালক উমা চৌধুরী।