• header_en
  • header_bn

বিশেষ সাক্ষাৎকার: ইফতেখারুজ্জামান; বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ তদন্তে বিচারিক কমিটি হোক

বিশেষ সাক্ষাৎকার: ইফতেখারুজ্জামান

বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ তদন্তে বিচারিক কমিটি হোক

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে এম জাকারিয়া |

 ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২০০৪ সাল থেকে। অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী ইফতেখারুজ্জামান ২০০৮ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) আন্তর্জাতিক পরিচালনা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। টিআইবিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন ও কলম্বোভিত্তিক রিজিওনাল সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উন্নয়ন, সুশাসন, দুর্নীতি ও রাজনীতির বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও সহযোগিতা তাঁর কাজ ও গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র। এসব বিষয় নিয়ে দেশ-বিদেশে অন্তত ১০টি গ্রন্থ ও অন্তত ৮০টি গবেষণা প্রবন্ধ রয়েছে তাঁর।

প্রথম আলো পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ বিশ্বব্যাংক দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছিল। শেষ পর্যন্ত এই অভিযোগে বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিলই করে দিল। আপনার প্রতিষ্ঠান টিআইবি দুর্নীতি নিয়ে কাজ করে, আপনার মূল্যায়ন কী?

ইফতেখারুজ্জামান পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাংক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বাংলাদেশ সরকারকে একটি পরীক্ষার মধ্যে ফেলেছে। বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিল করায় ব্যাপারটি এখানেই শেষ হয়ে গেল এবং সরকার মালয়েশিয়া বা অন্য কোনো সূত্র থেকে অর্থ জোগাড় করে সেতু তৈরি শুরু করে দিলবিষয়টি এভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এখন সরকারের প্রথম কাজ হচ্ছে, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করা। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা মানেই কেউ দোষী নয়, কিন্তু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে শাস্তির বিষয়টি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ সত্য নয়, তবে বিশ্বব্যাংককেও এ জন্য দায়বদ্ধতার মধ্যে আনতে হবে। ফলে আমি মনে করি, বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিষয়টি শেষ হয়ে গেল না, বরং নতুন করে শুরু হলো।

প্রথম আলো বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

ইফতেখারুজ্জামান বিশ্বব্যাংক যে এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তা অপ্রত্যাশিত ছিল না। তবে বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্ত কতটুকু যুক্তিযুক্ত, সেটাও ভেবে দেখা জরুরি। আমরা জানি, বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব এক নিরপেক্ষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, উন্নয়নশীল দেশে যেসব প্রকল্পের সঙ্গে তারা জড়িত, সেখানে দুর্নীতির ঘটনায় বিশ্বব্যাংক নিজেও দায়মুক্ত নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাংক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে এ ক্ষেত্রে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তার ফলেই সম্ভবত পদ্মা সেতুর ঋণচুক্তি বাতিল করেছে। এ ক্ষেত্রে আমার বক্তব্য হচ্ছে, যে প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে সবকিছুতেই বিশ্বব্যাংক জড়িত ছিল, সেখানে দুর্নীতির অভিযোগ এনে চুক্তি বাতিল করার বিষয়টি অনেকটা মাথাব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলার মতো।

প্রথম আলো আপনি তদন্তের কথা বললেন, কিন্তু বিশ্বব্যাংক অভিযোগ আনার পর দুর্নীতি দমন কমিশন তো একটি তদন্ত করেছে।

ইফতেখারুজ্জামান দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুদকের পক্ষ থেকে প্রাথমিক যে তদন্ত হয়েছে, তার যথার্থতা ও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পদ্মা সেতুর মতো একটি বড় ইস্যুতে দুদক যে তদন্ত করেছে ও সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়নি। এ নিয়ে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের কাছে তথ্য-প্রমাণ দিয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে সে দেশের তদন্তে। ফলে এ ধরনের একটি বড় দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুদক তার ভূমিকা রাখতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে যে বিষয়টি দেখা প্রয়োজন তা হচ্ছে, দুদকের পক্ষে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে তদন্ত করা সম্ভব কি না। আর এ ধরনের তদন্ত খুবই টেকনিক্যাল, এটা করার মতো দক্ষতা বা সক্ষমতা দুদকের রয়েছে কি না? এই দুটি ক্ষেত্রেই দুদকের সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ।

প্রথম আলো বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিল করার পর এখন কাদের দিয়ে তদন্ত করা হলে তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে?

ইফতেখারুজ্জামান আসলে তদন্তের জন্য এখন আর দুদকের ওপর ভরসা রাখার সুযোগ নেই। সরকারের উচিত একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করা। আর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারের উচিত বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্টতা বজায় রাখা। বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠিত হলে তাদের তদন্তের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে বিভিন্ন টেকনিক্যাল সহায়তার প্রয়োজন পড়বে। সেই সহায়তা তারা দেবে আশা করি।

প্রথম আলো এ ধরনের একটি আন্তর্জাতিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ নিয়ম বা নীতি আছে কি?

ইফতেখারুজ্জামান দুর্নীতি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বের সব দেশেই কমবেশি দুর্নীতি হয়। এক দেশের দুর্নীতি এখন সহজেই অন্য দেশে যায়, প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক দুর্নীতির তদন্তে সাধারণত দ্বিমুখী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একাধিক দেশের লোকজন ও প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকলে প্রতিটি দেশের নিজ নিজ আইনে এর বিচার হয়। কানাডার আইন অনুযায়ী কোনো কাজ পাওয়ার জন্য অন্য কাউকে ঘুষ দেওয়া যাবে না, যে কারণে এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে কানাডীয় সরকার। একই ধরনের দুর্নীতির কারণে কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোকে শাস্তি পেতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমরা কী দেখলাম? নাইকো যে দুর্নীতির জন্য দোষী সাব্যস্ত হলো, তার সঙ্গে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই দুর্নীতির সঙ্গে যে বা যারা জড়িত, তাদের কোনো শাস্তি হলো না। এর মানে হচ্ছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কানাডার আইন কার্যকরভাবে কাজ করলেও আমাদের দেশের আইন কাজ করছে না। একইভাবে এখন যদি বাংলাদেশের কাউকে ঘুষ দেওয়ার কথিত প্রস্তাবের কারণে এসএনসি-লাভালিন কানাডায় দোষী সাব্যস্ত হয় ও অন্যদিকে বাংলাদেশের কারও কোনো শাস্তি না হয়, তবে বুঝতে হবে যে এখানে দুর্নীতিবিরোধী আইন কাজ করে না। অথচ জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকার করছে। আন্তর্জাতিক দুর্নীতি তদন্তে বাংলাদেশ যেকোনো দেশের সাহায্য চাইতে পারে।

প্রথম আলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনার প্রতিষ্ঠান যে কাজ করে সে ক্ষেত্রে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের ওপরই নির্ভর করেন বলে আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। আপনাদের নিজস্ব অনুসন্ধান থাকে কি?

ইফতেখারুজ্জামান এটা আমাদের মানতেই হবে যে সংবাদমাধ্যম তথ্যের একটি বড় উৎস। তবে তা সব সময় শতভাগ সঠিক, তা আমরা বলব না। শুধু দুর্নীতি কেন, যেকোনো ধরনের গবেষণার ক্ষেত্রেই সংবাদপত্রের খবরকে তথ্য হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে সংবাদমাধ্যমের তথ্যকে অবমূল্যায়নের সুযোগ নেই। আমরা দুর্নীতির ক্ষেত্রে যে কাজ করে থাকি, সেখানে আমরা অন্তত ৫০টি গবেষণা সূত্র ব্যবহার করে থাকি, এর মধ্যে সংবাদমাধ্যমের তথ্য হচ্ছে একটি সূত্র। আমরা বিচার বিভাগ ও পুলিশ নিয়ে যে গবেষণা করেছিলাম, সেখানে সমাজবিজ্ঞান গবেষণার যে স্বীকৃত পদ্ধতি রয়েছে, তা অনুসরণ করেই আমরা করেছি। জাতীয় খানা জরিপ পদ্ধতি অবলম্বন করেছি এবং এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উৎকর্ষ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। আর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত সব তথ্যই আমরা গ্রহণ করি, বিষয়টি এমনও নয়। আমরা নিজস্ব যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করি।

প্রথম আলো বিশ্বের সব দেশেই দুর্নীতি আছে, কিন্তু এর সহনীয় পর্যায়টি আসলে কী? কীভাবে একটি দেশে দুর্নীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা যায়?

ইফতেখারুজ্জামান আমরা দুর্নীতির বিষয়টিকে ০ থেকে ১০ স্কেলের মধ্যে বিবেচনা করি। ৩-এর নিচে থাকলে বিষয়টি উদ্বেগজনক। ৫-এর ওপরে থাকার অর্থ দুর্নীতি মধ্যম পর্যায়ে ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। আমাদের সর্বশেষ অবস্থান হচ্ছে ২.৭। দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র ভুটানের অবস্থান ৫-এর ওপরে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৩-এর ওপরে। দুর্নীতিকে সহনীয় পর্যায়ে আনতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা। রাজনৈতিক পর্যায়ে সদিচ্ছা থাকলেই দুর্নীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব। দুর্নীতির ক্ষেত্রে কাউকে ভয় পাওয়া বা ক্ষমা করার পরিস্থিতি নেইএমন একটি অবস্থা দেশে সৃষ্টি করা জরুরি। দুর্নীতির ক্ষেত্রে যদি ছাড় না দেওয়া হয়, বড় বড় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতরা যদি শাস্তি পায়, তবে দুর্নীতি কমে আসতে শুরু করবে। আমাদের দেশে আইন আছে, কিন্তু দুর্নীতি যে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, সেটা সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে হবে দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে। জাতীয় সংসদের দায়িত্ব সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা। সংসদীয় কমিটিগুলোর কাজ সরকারের সব বিভাগকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা। সংসদ ও সংসদীয় কমিটিগুলো অকার্যকর থাকলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন। আর যে রাজনৈতিক সদিচ্ছার কথা বললাম, সেটা নিশ্চিত করার উপায় হচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, দুদক, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা।

প্রথম আলো ভারতে আমরা বিভিন্ন সময় বড় বড় দুর্নীতির খবর পাই। কিন্তু এরপর ধারণাটা এমন যে সে দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দুর্নীতি বেশি। এটা কেন?

ইফতেখারুজ্জামান ভারতের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে দুর্নীতি করে এ দেশে পার পাওয়া যত সহজ, ভারতে ততটা নয়। সেখানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে পদত্যাগের রেওয়াজ আছে। তদন্তের স্বার্থে দায় নিয়ে পদত্যাগ করেন। সম্প্রতি রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বাংলাদেশে পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু এ ধরনের সংস্কৃতি আমাদের দেশে খুব নেই। এর চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, যে প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতার কারণে সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর সুনাম ও আস্থা রয়েছে। সেখানে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা রয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। ভারতে সিবিআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠান তদন্তের স্বার্থে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে পর্যন্ত ডেকেছে। বাংলাদেশে দুদকের মতো প্রতিষ্ঠান ততটুকুই কার্যকর, যতটা সরকার দেখতে চায়। ফলে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে দুদক যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, কাউকে ছাড় না দিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত করতে পারে, তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতিও পাল্টাবে।

প্রথম আলো টিআইবির পক্ষ থেকে আপনারা বিচার বিভাগ ও পুলিশের ওপর দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। এর ফলাফল কী হলো? এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে আপনারা কি সরে এসেছেন?

ইফতেখারুজ্জামান আমাদের এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, দুর্নীতির তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতি ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনার পরিস্থিতি তৈরি করা। বিচার বিভাগ ও পুলিশ নিয়ে আমরা যে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলাম, তা নিয়ে অনেক তোলপাড় হয়েছে। কিন্তু এর ইতিবাচক ফলাফল রয়েছে। আমরা প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি দুটি নীতি সংস্কার প্রস্তাবও দিয়েছি। আমাদের প্রস্তাব বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে বিবেচিত হয়েছে। উচ্চ আদালতের বিচারকেরা সম্পদে হিসাব দিতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগ গ্রহণে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিসে অভিযোগ বাক্স খোলা হয়েছে। এগুলো সবই ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। একইভাবে পুলিশের কাছেও আমরা সুপারিশ দিয়েছি। আমাদের অবস্থান দুর্নীতির বিরুদ্ধে, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়। আর আমরা যে গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছি, তা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহায়তা নিয়েই করেছি।

প্রথম আলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে সরকারের তরফে কোনো চাপ অনুভব করেন কি না?

ইফতেখারুজ্জামান চাপ একেবারে নেই, তা বলব না। সরকারের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না। সমালোচনা যে সরকারের উপকার করতে পারে, সেটা অনেক সময় তাঁরা বিবেচনায় নেন না। আমরা দেখি যে যখন যাঁরা ক্ষমতায় থাকেন, তখন তাঁরা আমাদের বিরোধিতা করেন আর বিরোধী দলে গেলে আমাদের সমর্থন করেন। যেহেতু দুর্নীতি নিয়ে কাজ করি, ফলে কিছু চ্যালেঞ্জ তো নিতেই হয়।

প্রথম আলো আপনাকে ধন্যবাদ।

ইফতেখারুজ্জামান ধন্যবাদ।

সাক্ষাৎকারটি গত ০১-০৭-২০১২ তারিখে দৈনিক তে প্রকাশিত হয়/

লিঙ্ক