• header_en
  • header_bn

কান টানলেও আসছে না মাথা


ইফতেখারুজ্জামান*

দুর্নীতির ক্ষেত্রে কান টানলে মাথা আসা উচিত। কিন্তু আমাদের জবাবদিহির জায়গাটা এমন একপর্যায়ে আছে, মাথা আসছে না। চুনোপুঁটি নিয়ে টানাটানি হচ্ছে। রাঘব বোয়ালরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। একটা ঘটনা চাপা পড়ে যাচ্ছে আরেকটা নতুন ঘটনায়। দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে যাঁরা অভিযুক্ত হন, যাঁদের ধরা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন তাঁদের বিরুদ্ধে কিছুটা তৎপর হয়। এই তৎপরতা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যম বা নিম্নমধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী বা দু-একজন ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। অর্থাৎ চুনোপুঁটি নিয়ে টানাটানি হয়। কিন্তু ঘটনার পেছনের রুই-কাতলাদের কিছুই হয় না।
এর কারণ হচ্ছে প্রভাবশালীদের যাঁরা এসব অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের ক্ষেত্রে কোনো না কোনোভাবে, প্রত্যক্ষ হোক বা পরোক্ষ হোক, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার একটা সূত্র পাওয়া যায়। আগে থেকে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও প্রয়োজনে করে নিতে পারে। পারে এ জন্য যে তাঁদের অর্থবিত্ত আছে। এই যে রাজনৈতিক যোগসাজশ, সেটার সঙ্গে দুর্নীতির ক্ষেত্রে সমর্থন, পৃষ্ঠপোষকতা, অংশগ্রহণ ও সুরক্ষা যোগ হয়।
প্রশাসনিক দিক থেকেও একই অবস্থা চলে আসছে। প্রশাসনও তাদের সুরক্ষা দেওয়ার পথ বেছে নেয়। দুর্নীতির মূল হোতা, সেই রাঘব বোয়ালরা একটা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্যের চেয়ে বেশি প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। সে কারণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। একটা ঘটনা আসে, সেটা মিডিয়ায় প্রচার হয়, আমরাও কিছু বলি, এরপর নতুন আরেকটা ঘটনা এলে আগের ঘটনা চাপা পড়ে যায়।
এসবের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায় আছে। ব্যক্তিপরিচয় ও অবস্থানের ঊর্ধ্বে থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতি দমনে যে আইনি এখতিয়ার দেওয়া আছে, এর যথাযথ প্রয়োগ হলে দেশে একটার পর একটা দুর্নীতির ঘটনা ঘটত না। আমাদের ব্যর্থতাটা এখানেই।
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার ঘোষণা এসেছে। কিন্তু এ ঘোষণা বাস্তবায়িত হচ্ছে না এ কারণে যে এটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব যাদের, তাদের একাংশ হয় এই দুর্নীতিবাজ চক্রের সঙ্গে জড়িত, অথবা বিশেষ স্বার্থে প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজদের তারা সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে।
---------------  
* নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) 
 
   দৈনিক কালের কণ্ঠ,
   ১৪ জুলাই ২০২০
   লিংক