• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

সেই আশঙ্কাই সত্য হলো

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে যে ধরনের সহিংসতা ঘটেছিল, নির্বাচনের পর তা অনেকটাই কমে এসেছিল। এ পরিস্থিতি সরকারের জন্য সহায়ক হয়েছিল। মনে হচ্ছিল, দেশ শান্ত ও স্থিতিশীল হয়ে এসেছে। কিন্তু এই শান্তি ও স্থিতিশীলতা পেতে আমাদের উচ্চমূল্য দিতে হয়েছিল। কারণ, এ স্থিতিশীলতা গণতান্ত্রিক পন্থায় আসেনি। তাই শুরু থেকেই আশঙ্কা ছিল, স্থিতিশীলতা খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। সেই আশঙ্কাই সত্য হলো।
বলা হয়েছিল, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ম রক্ষার নির্বাচন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন। এমনও বলা হয়েছিল, ২৪ জানুয়ারির পর আবার নির্বাচন হবে। কিন্তু সে রকম কিছু ঘটেনি। সরকারের ক্ষমতার উৎস মানুষ। সেই অর্ধেক মানুষ ভোটই দিতে পারেনি। যে কারণে এ সরকারের রাজনৈতিক ও নৈতিক ভিত্তি নেই।
বর্তমানে যে রাজনৈতিক হানাহানি তা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে পেছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দলগুলোর মধ্যে চরম অসহিষ্ণুতা। তারা বলপ্রয়োগ করে ক্ষমতায় থাকতে অথবা ক্ষমতায় যাওয়ার প্রতিযোগিতা করছে। দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কোনো চর্চা নেই। যে কারণে আলাপ-আলোচনা বা বহুমতের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া একটা পথ ছিল, সে সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ। দলগুলো আগে নিজেদের মধ্যে যতটুকু গণতন্ত্রের চর্চা করত, সেটিও এখন আর নেই।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আইন প্রয়োগ না করে সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছে। মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
সুশাসনের সংকট এমন পর্যায়ে গেছে যে সরকারকে তাদের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিও করতে হচ্ছে না। সমস্যাটি রাজনৈতিক বলেই তা সমাধান করতে হবে রাজনৈতিকভাবে। সে জন্য সরকারি ও বিরোধী পক্ষকে আলোচনায় বসতে হবে।
ইফতেখারুজ্জামাননির্বাহী পরিচালকট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)
 
০৮-০১-১৫ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত। লিঙ্ক