• header_en
  • header_bn

প্রতিরক্ষায় জবাবদিহি-গণতন্ত্রের সুরক্ষা

 
যুদ্ধ পরিচালনা এমন গুরুত্বপূর্ণ এক দায়িত্ব যা জেনারেলদের হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না’—এরূপ বলেছিলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফরাসি বিজয়ের নায়ক সে দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জর্জ ক্লেমেন্সিউ, যিনি ভার্সাই চুক্তিরও মূল প্রণেতা ছিলেন। ওই কথাটির মূল মর্মার্থ প্রতিরক্ষা খাতের ওপর সার্বভৌম জনগণের নজরদারি।
আমাদের দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী সনাতনি অর্থে যুদ্ধ করার জন্য গড়া নয়, বরং দেশকে তথা জনগণকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করা, তা যতই সুদূরপরাহত হোক। সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রীয় তথা জনগণের স্বার্থে গঠিত অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান, যা জনগণের অর্থে লালিত, প্রশিক্ষিত, সামর্থনপ্রাপ্ত ও সমৃদ্ধ হয়। তাদের আনুগত্য ও দায়বদ্ধতা স্বাভাবিকভাবেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সার্বভৌমত্বের মালিক জনগণের কাছে।
বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা বাহিনীর জবাবদিহিবিষয়ক আলোচনা বিরল। বোধগম্য নয় এমন কারণে বিষয়টি জনগণের ধরাছোঁয়ার ঊর্ধ্বেই রয়েছে, যা আমি মনে করি এমনকি প্রতিরক্ষা খাতেরই অনেকের নিকট অগ্রহণযোগ্য। আমার এই বিশ্বাস এ কারণে যে আমাদের প্রতিরক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ বিবর্তন ও আধুনিকায়ন হয়েছে কেবল জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে অংশগ্রহণের কারণেই নয় বরং গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিতে চির প্রস্তুত এমন জনগণের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ক্রমাগত আলোকিত এক বাহিনী হিসেবে।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অবশ্য প্রতিরক্ষা বাহিনীর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রায়ই আলোচিত এক বিষয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮২টি দেশের প্রতিরক্ষা খাতের সুশাসন ও দুর্নীতির ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে গত ২৯ জানুয়ারি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্য এক গবেষণামূলক সূচক প্রকাশ করেছে। এর আগে ২০১০ সালে বিবিসি বাংলা ‘ফৌজি বাণিজ্য’ শীর্ষক সিরিজ প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর বিনিয়োগ-ব্যবসা বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
উল্লিখিত গবেষণার পরিপ্রেক্ষিত যেসব সমস্যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে তার মধ্যে রয়েছে জাতীয় প্রতিরক্ষানীতির অনুপস্থিতি; সশস্ত্র বাহিনীর লাভজনক ব্যবসার ক্রমবর্ধমান বিস্তারের ফলে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি ঘাটতির ঝুঁকি; নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সত্ত্বেও উচ্চতর পর্যায়ে পদোন্নতি, বদলি ও অবসর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকি; এবং জাতীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা বরাদ্দসহ প্রতিরক্ষা ক্রয় খাতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্যের ঘাটতি ও জনগণের আলোচনার সুযোগের স্বল্পতা। মাঠপর্যায়সহ সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রমে (অপারেশনস) স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সহায়ক এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি প্রতিরোধক সুনির্দিষ্ট কৌশলের ঘাটতিও বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের সামরিক অস্ত্র ক্রয়চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে এর পেছনে যথার্থ যুক্তি বিষয়েও গণমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও আকর্ষণীয় বিষয়ের ভারে কিছু মৌলিক প্রশ্ন দৃষ্টির আড়ালে রয়ে গেছে। যেমন ওই চুক্তিটি কী আমাদের প্রতিরক্ষা খাতের বাস্তব প্রয়োজননির্ভর চাহিদা উদ্বুদ্ধ নাকি আসলে এটা বিক্রেতাপক্ষের উদ্যোগের ফসল, বিশেষ করে এমন এক সরবরাহক দেশের, দুর্নীতির ধারণাসূচকে যার অবস্থান পৃথিবীর ১৭৪টি দেশের মধ্যে ১৩৩তম, জি-২০ দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন এবং অস্ত্র সরবরাহকারী অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় নিম্নতর।
এ পরিপ্রেক্ষিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ২০০৭-০৮ এর প্রতিরক্ষা বাহিনী-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সশস্ত্র বাহিনীর একাংশের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির ক্ষেত্রে ধরন ও প্রক্রিয়া এবং এসব দুর্নীতির কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ( টিআইবি)
বলার অপেক্ষা রাখে না যে মূলত রাজনৈতিক মতানৈক্য ও সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে তথাকথিত এক-এগারো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং সশস্ত্র বাহিনী-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অভ্যুদয় ঘটে। গবেষণায় ওই আমলে একাধিক ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী যে ইতিবাচক অবদান রেখেছে তার বিশ্লেষণ করা হয়। যেমন, মাত্র ১১ মাসে জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রকল্প বাস্তবায়ন; কোনো কোনো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে সংস্কার ও সেবাকাজে গতিশীলতা বৃদ্ধি; বিচার বিভাগকে পৃথক্করণে পদক্ষেপ; জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি নির্বাচন আয়োজন ও শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে অবদান; চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনার জট হ্রাস; অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা; বকেয়া গ্যাস, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের বিল আদায় ইত্যাদি।
অন্যদিকে সশস্ত্র বাহিনীর একাংশ ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতিতেও জড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইনের শাসন ও মানবাধিকার ব্যাহত হয়, যার ফলে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষমতার অপব্যবহারের দৃষ্টান্তের মধ্যে রয়েছে বলপূর্বক অর্থসম্পদ আদায়; সংবিধান ও আইনের লঙ্ঘন; মানবাধিকার হরণ এবং আওতাবহির্ভূতভাবে রাজনীতি, ন্যায়বিচার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, ইত্যাদি জনগুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ।
তৎকালীন সরকার-ঘোষিত সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাওয়া এজেন্ডা ছিল দুর্নীতি প্রতিরোধ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর একাংশ যা করেছে, তা বাস্তবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ক্ষমতার অপব্যবহার তথা দুর্নীতিরই সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত। পেশাগত পদবি ও পরিচয় ব্যবহার করে দুর্নীতির অভিযোগ বা সম্ভাব্য অবৈধ সম্পদের মালিক, এ ধরনের যুক্তিতে মামলা করা হবে এমন ভয় দেখিয়ে, অথবা সম্ভাব্য শাস্তি কমিয়ে দেওয়া হবে, জামিন দেওয়া হবে বা মামলা করা হবে না, এরূপ প্রলোভন দেখিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে বলপূর্বক অর্থ আদায় করা হয়েছে। এ ধরনের বেআইনি কাজের শিকার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এমন মুচলেকা আদায় করা করা হয় যে তারা স্বেচ্ছায় উন্নয়নের স্বার্থে অনুদান দিয়েছে। লেনদেনে রাজি না হলে নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনী পরিচয়ে ঢাকার অদূরে একাধিক উপজেলায় জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে অনাগ্রহী জমির মালিককে জমি বিক্রয় করতে বাধ্য করা হয়েছে। এ জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছার বিরুদ্ধে মধ্যস্থতা করতে বাধ্য করা হয়েছে। অস্বীকার করলে সেনাক্যাম্পে নির্যাতনের জন্য নিয়ে যাওয়া হতো ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, এমনকি জেলে পাঠানো হয়েছে।
জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির নাম করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের গোপন স্থানে বা স্থানীয় ক্যাম্পে আটক করে ইচ্ছামতো সুবিধা আদায় করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এরূপ প্রক্রিয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবিসহ ভোটার তালিকা বাস্তবায়নে পুরো বাজেট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে বস্তুগত জোগান এমনকি নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদি সরবরাহ করতে বাধ্য করা হয়।
সর্বোচ্চসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, শিল্পপতিকে ভয়ভীতি ও হয়রানিসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি অবস্থার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আটক রাখা এবং পরবর্তী সময়ে একইভাবে রেকর্ড গতিতে জামিন মঞ্জুর করিয়ে বিচারব্যবস্থার মর্যাদাহানি করা হয়েছে। দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপরাধের নামে দায়ের করা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবীকে হুমকিসহ বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শিক্ষকদের ওপর হয়রানি ও নির্যাতন শুধু মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনই ছিল না বরং বাংলাদেশের ইতিহাসে সব গুরুত্বপূর্ণ গৌরবময় অর্জনের পেছনে অন্যতম এক চালিকাশক্তি সম্পর্কে হয় অজ্ঞতা অথবা ছিল উদ্দেশ্যমূলক অবমাননার শামিল।
যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার কারণে দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘হাইপ্রোফাইল’ ও ‘হাইস্পিড’ অভিযান বাস্তবে আত্মঘাতী প্রতীয়মান হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের ওপর টাস্কফোর্সের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনা ও চাপ শুধু কমিশনকে বিতর্কিতই করেনি, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে সশস্ত্র বাহিনী-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের জবাবদিহিবিহীন আচরণের দায় অনেকটাই কমিশনের ওপর পড়েছে।
বৃহৎ দুই দলের অভ্যন্তরে বিভাজন সৃষ্টি, নতুন রাজনৈতিক দল সৃষ্টির প্রয়াস ও বিশেষ করে তথাকথিত ‘মাইনাস টু’-এর মতো উদ্যোগ যেমন ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে অযাচিত ও অবৈধ হস্তক্ষেপ, তেমনি ছিল সশস্ত্র বাহিনীর একাংশের ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের দৃষ্টান্ত। এই রাজনৈতিক অনুপ্রবেশের আত্মঘাতী প্রয়াস উভয় বড় দলে দীর্ঘমেয়াদি আস্থাহীনতা সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে উল্লিখিত সময়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে গণমাধ্যম ও ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর সবচেয়ে নগ্ন ও কঠোরতম নিয়ন্ত্রণ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও জাতিসংঘের শান্তি বাহিনীতে সাফল্যজনক অবদানের জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। অর্জিত এই মর্যাদার ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়িয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও জাতীয় সুনাম আরও উজ্জ্বলতর করার লক্ষ্যে উল্লিখিত সময়ের অভিজ্ঞতার বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ ও খোলামেলা আলোচনার বিকল্প নেই।
স্বাধীনতার চার দশক পরও আমাদের কেন জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালা থাকবে না? এ রূপ নীতিমালা প্রণয়নে জনস্বার্থ ও জন-অংশগ্রহণ কেন প্রাধান্য পাবে না? প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে (অপারেশনস) কেন সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাপকাঠি অন্তর্ভুক্ত হবে না এবং কার্যকরভাবে তার প্রয়োগ হবে না, যেন উল্লিখিত ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়? প্রতিরক্ষা বাজেট ও ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য কেন জনগণের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে? প্রতিরক্ষা বিষয়ের কর্তৃত্ব প্রতিরক্ষা বিভাগের হাতে কতটুকু আর মন্ত্রণালয়ের হাতেই বা কতটুকু—এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা কেন হবে না? সর্বোপরি প্রতিরক্ষা বিষয়ে জনপ্রতিনিধিরা কেন খোলামেলা আলোচনা করবেন না?
এসব প্রশ্নের উত্তর জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে উল্লিখিত অনিয়ম ও দুর্নীতির পরিপ্রেক্ষিতে বেসামরিক কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অংশগ্রহণের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে সম্যক উপলব্ধির স্বার্থে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা অপরিহার্য। গণতন্ত্র ও সুশাসনের অগ্রযাত্রায় রাজনৈতিক ঘাটতি ও তার ফলে উদ্ভূত সংকটাপন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর হস্তক্ষেপকে ত্রাতা হিসেবে দেখার যে মানসিকতা, তার সারবত্তাহীনতার প্রমাণ টিআইবি প্রণীত উল্লিখিত প্রতিবেদন।
সশস্ত্র বাহিনীর রাজনৈতিক তথা বেসামরিক অঙ্গনে অনুপ্রবেশের ফল বাস্তবে হয় আত্মঘাতী। এর ফলে শুধু যে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয় তা-ই নয়, বরং দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই উপলব্ধি গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও উন্নততর গণতান্ত্রিক চর্চার বিকাশের জন্য অপরিহার্য। রাজনৈতিক অঙ্গনে অগণতান্ত্রিক শক্তির অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের মূল দায়িত্ব ও সামর্থ্য মূলত রাজনৈতিক নেতৃত্বেরই হাতে। আর এর চাবিকাঠিও এক অর্থে খুবই সহজ—মতপার্থক্য, বিভেদ ও দ্বন্দ্ব যত গভীরই হোক না কেন আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে হবে, গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে
 
ইফতেখারুজ্জামাননির্বাহী পরিচালকট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)
 
লিখাটি ৪--১৩ তারিখে প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত।