• header_en
  • header_bn

নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ করেনি সরকার

নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ করেনি সরকার

দেশে সর্বব্যাপী দুর্নীতি, বিশ্বে দুর্নীতির ধারণা সূচক সম্পর্কে সম্প্রতি প্রকাশিত টিআই জরিপ, সংসদ সদস্যদের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকা প্রশ্নে টিআইবি রিপোর্ট, দুর্নীতি দমন কমিশনের ভূমিকাসহ নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। কালের কণ্ঠে তাঁর বিশেষ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন মহসীন হাবিব

কালের কণ্ঠ : সম্প্রতি দুর্নীতির ধারণা সূচক প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। টিআইবির পক্ষ থেকে আপনি বাংলাদেশের দুর্নীতি পরিস্থিতি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন? বর্তমান পরিস্থিতি যা, সে অনুযায়ী আগামী দিনগুলোতে দুর্নীতি পরিস্থিতি কেমন হতে পারে?

ইফতেখারুজ্জামান : যেটা প্রকাশ করা হয়েছে তার বিস্তারিত যাওয়ার দরকার নেই, সেটা আপনারা জানেন। প্রথম হচ্ছে আন্তর্জাতিক তুলনামূলক চিত্রে বাংলাদেশের যে অবস্থা, সে পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দেখেছি। যখন থেকে সূচকটা হচ্ছিল তখন থেকে আমরা দেখেছি, বাংলাদেশের অবস্থান নিম্নতম ছিল। '২০০১ থেকে ২০০৫' পরবর্তী সময়ে আমরা কিছুটা অগ্রগতি দেখেছি_এটা বলা যায়। ২০০৬ থেকে শুরু করে অবস্থা উন্নতির দিকে যাচ্ছে। গত বছর ১৩তম অবস্থানে ছিল। আমরা আশা করছিলাম বর্তমানে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে, সুতরাং দুর্নীতির সূচকে উন্নতি অব্যাহত থাকবে। কারণ সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে। এবারের টার্ম যদি আমরা দেখি, নিম্নক্রম আগের মতোই আছে, সেটা থেকে অনেকে মনে করতে পারেন, কোনো পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু আবার অন্য যে দুটি আঙ্গিক, অর্থাৎ স্কোর্স সে ক্ষেত্রে ২৮ ধাপ কমেছে। কাজেই এটি আমাদের কাছে প্রত্যাশিত ছিল না এবং এটি উদ্বেগের বিষয়। এটি আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিত। আর জাতীয় পরিপ্রেক্ষিতে আমরা যদি দেখি, সেখানে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতটাই প্রতিফলিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বলতে হয়, সরকারের যে নির্বাচনী অঙ্গীকার সে অনুযায়ী শুরুর দিকে কিছুটা ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছিল। যেমন_তথ্য অধিকার আইন হয়েছে, তথ্য প্রদানকারী সুরক্ষা আইন হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে তৃতীয় প্রজন্মের নাগরিক সনদ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচারণা এবং সেবামূলক খাতগুলোয় কিছু উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু এর পাশাপাশি বড় ধরনের কিছু ইস্যু বিশেষ করে পদ্মা সেতু, ডেসটিনি, হলমার্ক শেয়ারবাজার_এসব ক্ষেত্রে উন্নতি বা দৃষ্টান্তমূলক কোনো সিদ্ধান্ত দেখা যাচ্ছে না। তারপর কালো টাকার ব্যাপারে সাংবিধানিক প্রভিশন, কালো টাকাকে প্রশ্রয় না দেওয়া এসব ছিল, এর বদলে সরকার কালো টাকা প্রমোট করার সুযোগ দিচ্ছে। সরকার দুর্নীতির বিচার না করে দুর্নীতির মামলা তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এর মধ্যে সরকার একটি উদ্যোগ নিল যে সরকারের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার_যে মামলাগুলো দুর্নীতি দমন কমিশনে রয়েছে। এই যে দিকগুলো। যারা এখন সরকারে আছেন তাঁরা কিন্তু অঙ্গীকার করেছিলেন সম্পদের বিবরণী দেবেন। সে ক্ষেত্রেও কিছু করা হলো না। বিভিন্ন সময় আপডেট করা তারও কিছু হলো না। তারপর রয়েছে সংসদের অকার্যকারিতা। জনগণের কাছে জবাবদিহি করার জন্য_এই যে কাজগুলো, এসব প্রাতিষ্ঠানিকভাবে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। সুতরাং দুর্নীতি আবার বেড়ে চলেছে এবং এরই প্রতিফলন ঘটছে রিপোর্টে।

কালের কণ্ঠ : সম্প্রতি সংসদ সদস্যরা আপনাদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। আপনারা বলেছেন, ৯৭ শতাংশ সংসদ সদস্য অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সংসদেই তাঁরা আপনাদের নিষিদ্ধ করার, দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলেছেন। আপনারা বিব্রত হয়েছেন কি?

ইফতেখারুজ্জামান : আমরা এটাকে আমাদের পেশাগত বিড়ম্বনা বলেই মনে করি। সব সময়ই যাঁরা ক্ষমতায় থাকেন তাঁদের একাংশ আমাদের প্রতিবেদন নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখান। আবার যখন বিরোধী দলে থাকেন তখন আমাদের রিপোর্টকে স্বাগত জানান। যে প্রতিবেদনটির কথা আপনি বললেন, সেটি সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের ধারণার ঘাটতির কারণেই হয়তো বা এমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। আমরা কিন্তু কখনোই বলিনি যে আমাদের সংসদের ৯৭ শতাংশ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, ১৪৯টি আসন সম্পর্কে আমরা তথ্য পেয়েছি। এর মধ্যে ৯৭ শতাংশ কোনো না কোনো নেতিবাচক কাজের সঙ্গে জড়িত। এটাকে সরলীকরণ করা যাবে না। এই নেতিবাচক কাজের মধ্যে দুর্নীতি থেকে শুরু করে কোনো একটি স্কুলে প্রভাব খাটানো বা অনিয়ম করা, এমনকি হত্যা মামলা সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের নিয়েও তথ্য আছে। এর পাশাপাশি আবার ইতিবাচক কাজের কথাও বলা আছে। আমাদের সংসদ সদস্যরা ৫৩ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনো না কোনো ইতিবাচক কাজ করেছেন। সে চিত্রটিও কিন্তু তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে জনগণের কাছে যাওয়ার এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের বিষয়গুলো আছে। আমরা এ দুটি দিক বিশ্লেষণ করে মহান সংসদকে কার্যকর করার জন্য কতগুলো সুপারিশ দিয়েছি। সেগুলো নিয়ে এবং সুপারিশগুলো আলোচনা না করে সংসদ সদস্যদের কেউ কেউ খুব নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। আমাদের গবেষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আমরা সব সময় বলে থাকি, এটি একটি সামাজিকবিজ্ঞান গবেষণা। আমরা শুধু গবেষণার মাধ্যমে চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করি। এই গবেষণা এবং আমাদের সব গবেষণাই আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি, যেন সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য, জাতীয় আন্তর্জাতিক যে পদ্ধতি আছে তা অনুসরণ করে আমরা কাজটি করতে চেষ্টা করেছি। আমরা দৃঢ়ভাবে এর যথার্থতা প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করেছি। এবং আমি মনে করি, প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় যে একটি ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি আমরা আমাদের ব্যাখ্যার মাধ্যমে পরিষ্কার করতে পেরেছি এবং আমি ধারণা করব যে সম্মানিত সংসদ সদস্যরা, মাননীয় স্পিকার এবং অন্য যাঁরা আছেন সেক্যুলার, তাঁরা আমাদের সুপারিশগুলোর দিকে দৃষ্টি দেবেন। যার মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

কালের কণ্ঠ : আপনি পদ্মা সেতু প্রশ্নে সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেলে বলেছেন, আবুল হোসেন সাহেবদের আদালতে পাঠালে তাঁরা যদি নির্দোষ হন তাহলে আদালত থেকে বের হয়ে আসবেন। কিন্তু বাংলাদেশের নিয়মানুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে পরীক্ষামূলকভাবে আদালতে পাঠানো যায় না। আপনার এ বক্তব্য বাংলাদেশের আইনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কি না?

ইফতেখারুজ্জামান : আমি বলতে চেয়েছি, যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ আসে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তসাপেক্ষে যদি কারো বিরুদ্ধে মামলা হয়, তাহলে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অপরাধী কি না সেটা প্রমাণ হয়। এ ক্ষেত্রে হয়তো বিচার প্রক্রিয়া পর্যন্ত নাও যেতে পারে। মাননীয় আদালত হয়তো প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগেই বলে দিতে পারেন যে এটা আমলযোগ্য নয়। আমরা বা আমি কিন্তু কখনো বলিনি, সাবেক মন্ত্রী আবুল হোসেন দুর্নীতিবাজ। আমরা যেটা বলেছি, তিনি যে অবস্থান নিয়েছেন তা যথার্থ এবং তাঁকে কিন্তু যথার্থ কি না তা প্রমাণের সুযোগ দিতে হবে। পদ্মা সেতুর মতো বিরাট একটি প্রকল্পের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ জড়িত। যে ১০ জনের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে, সেখান থেকে যদি এক বা দুজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে দেশে এবং আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠবে, কেন একজনকে রাখা হলো আর কেন আরেকজনকে সরানো হলো। এই জিনিসটির ব্যাপারে সরকার এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য এটা প্রয়োজন বলে মনে করি।

কালের কণ্ঠ : আপনাদের অবজারভেশন কী? পদ্মা সেতুর দুর্নীতিতে যে এভিডেন্স আছে বা সেসব এভিডেন্সের বলে এখানে বিচারিক কাজ শুরু করাটা বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না?

ইফতেখারুজ্জামান : প্রথম দিকে আমাদের সরকারের পক্ষে দুদক থেকে বলা হয়েছে, দুর্নীতির ষড়যন্ত্র আমাদের আইনে আমলযোগ্য নয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা গেল, যেভাবে হত্যার ষড়যন্ত্র বা অপরাধের ষড়যন্ত্র হয়, সে হিসাবে আমাদের দুদক, লিগ্যাল অ্যাডভাইজার থেকে শুরু করে সরকারের পক্ষ থেকে মেনে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আমাদের আইনের সঙ্গে এটা সাংঘর্ষিক নয়। তবে দুদকের চেয়ারম্যান যে কথাটি বলেছেন আমি তার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত যে পুরো প্রক্রিয়াটা বাংলাদেশের আইনের আলোকে হতে হবে। এখানে আমরা দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের যে এঙ্পার্টরা, তারাও চাচ্ছে বাংলাদেশের আইনের বাইরে কোনো আইন দ্বারা এটা হবে না। এবং সেটা চাওয়ার তাদের কোনো এখতিয়ার নেই। আমরা তাহলে অবশ্যই প্রতিবাদ করব।

কালের কণ্ঠ : আপনি সম্প্রতি বলেছেন, দুদক মনস্তাত্তি্বক চাপে আছে। এর মানে কী দুদক রাজনৈতিকভাবে সরকারের দ্বারা প্রভাবিত?

ইফতেখারুজ্জামান : জি, আমি এ কথাটি বলেছি এবং এটার একটু বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে হবে। বর্তমান সরকারের দুর্নীতিবিরোধী সুস্পষ্ট কিছু অঙ্গীকার ছিল ক্যাপাসিটির জন্য, বিশেষ করে বিল্ডিংয়ের রাষ্ট্র কাঠামোতে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া। বলা হলো যে আইনটাকে শক্তিশালী করার জন্য কিছু সংশোধনী আনা হবে। ২০১০ সালের মার্চ বা এপ্রিল মাসে সেই সংশোধনীতে এমন কিছু প্রভিশন রাখা হলো যেগুলো গৃহীত হলে দুদকের স্বাধীনতা আরো খর্ব হতো। যেমন_সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে হলে আগে অনুমোদন লাগবে, সচিবদের নিয়োগটা দিতে হবে সরকারের হাতে, যেটা এখন দুদকের হাতে রয়েছে। এ ধরনের বেশ কিছু চিন্তা ছিল যেগুলো আমরা মনে করেছি, গণমাধ্যমসহ যে সাধারণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজে সহায়ক হবে না। আমরা জনমত জরিপও করেছিলাম। বিভিন্নভাবে ক্যাম্পেইন করে সরকারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে কাজ করে, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কাজ করে। শেষে একটা পর্যায় কিন্তু সরকার সরে এসেছে। সংশোধনী খসড়াটা আমাদের হাতে নেই, কিন্তু গণমাধ্যমসহ আমরা যাদের সঙ্গে কাজ করি তাদের মাধ্যমে জানতে পারি, আমরা যেমন চেয়েছিলাম আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যেমন_পুলিশ, র‌্যাব, অন্যদিকে এনবিআর দুদককে তথ্য দিতে বাধ্য থাকবে। এগুলো কিন্তু দুদকের কাজের জন্য খুব সহায়ক। এটাকে আমরা স্বাগত জানাই। অন্যদিকে যা হয়েছে, সেটা হলো খসড়াটি ঝুলে আছে এবং এর সমাধান এখনো হয়নি। ইতিমধ্যে যে সময়টি কেটে গেল, এ সময়ের মধ্যে দুদকের একটা দৃঢ়তাহীন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে আসলে আইনের সংশোধনীটা কী হতে যাচ্ছে? শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। সেখানে একটা চাপের অনুভূতি আমি দেখেছি দুদকের অভ্যন্তরে। এ কারণেই আমি মনস্তাত্তি্বক চাপের কথা বলেছি। এবং আমি মনে করি, যত তাড়াতাড়ি এটা শেষ হবে তত দুদকের জন্য সহায়ক হবে।

কালের কণ্ঠ : সম্প্রতি দুদকের কনফারেন্সে চেয়ারম্যান মহোদয় একটি আদেশ দিয়েছেন যে সম্পদসংক্রান্ত অনুসন্ধান নিরুৎসাহিত করতে হবে। আমরা জানি, আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ থাকাটাই দুদকের তদন্তের অন্যতম একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। এ সম্পর্কে আপনার মত কী?

ইফতেখারুজ্জামান : এটা শুনে আমি খুব অবাক হলাম। যদি এ কথাটি তিনি বলে থাকেন তাহলে কী পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন তা জানা নেই। সব শেষে পত্রিকায় এসেছে ডেসটিনির সম্পদ তারা ফ্রিজ করছে; কিন্তু আপনি যেটা বলেছেন সেটা খুবই সত্যি। যেকোনো দেশে বিশেষ করে বাংলাদেশে তো বটেই, কেউ দুর্নীতি করে সম্পদ করেছেন কি না, সেটা দেখার মাধ্যমেই কিন্তু দুর্নীতি তুলে ধরার সবচেয়ে সহজ উপায় এবং সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বিষয়। এটাকে বরং আরো প্রমোট করা উচিত। আইনগত ভিত্তি আরো দৃঢ় করা উচিত। তদন্ত প্রক্রিয়ায় আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসংগতিকে আরো দৃঢ়ভাবে দেখা উচিত। এর বিপরীতে অন্য কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। কাজেই চেয়ারম্যান মহোদয় যদি এ কথা বলে থাকেন তাহলে তার সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করি এবং এ ধরনের কোনো নির্দেশনা এলে আমরা তার প্রতিবাদ করব।

কালের কণ্ঠ : বলা হয় সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি প্রবেশ করেছে এবং প্রতিটি সেক্টরই দুর্নীতি দ্বারা কনটামিনেটেড। অথচ দেখা যায় আপনাদের পরিসংখ্যান, জরিপ, রিপোর্টসহ সব সরকারভিত্তিক হয়ে থাকে। সরকারের বিভিন্ন বিষয় আপনারা প্রকাশ করেন। আপনাদের প্রাইভেট সেক্টরের ওপর কোনো জরিপ আছে কি না।

ইফতেখারুজ্জামান : প্রত্যক্ষভাবে আমরা প্রাইভেট সেক্টর নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কাজ করতে পারিনি। তবে আমাদের কিছু কাজ শুরু হয়েছে। যেমন_পোশাকশিল্প নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। আমাদের সামনে একটি প্রতিবেদন আসবে অভিবাসন খাত সম্পর্কে। যেখানে কিছু তথ্য আসবে। আরেকটি কথা বলতে হবে যে প্রাইমারি ইনডেঙ্। অর্থাৎ যারা ঘুষ প্রদান করে তাদের একটি সূচক, যেটা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে যারা সরকারের সঙ্গে ব্যবসা করতে গিয়ে অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে তাদের নিয়ে। দেখা গেছে, সারা বিশ্বেই এই চিত্রটি বিরাজ করছে। সরকারি সেবামূলক খাতে ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরিতে কিন্তু শুধু সরকার এবং রাজনীতিবিদদের দ্বারা হয় না। এখানে একটি ত্রিমুখী যোগসাজশের মধ্য দিয়ে। প্রাইভেট সেক্টর ইনভলভড। এভাবে কিছু উঠে আসে। তবে আপনার কথা ঠিক।

কালের কণ্ঠ : সংসদ সদস্যদের নিয়ে যে প্রতিবেদনটি করেছেন, এ কাজটি কি আপনারা বরাবরই করেছেন?

ইফতেখারুজ্জামান : না, এ কাজটি সুনির্দিষ্টভাবে এবারই করেছি। আগে হয়তো অন্য কাজের অংশ হিসেবে উঠে এসেছে। আমাদের উদ্দেশ্যটা ছিল সুস্পষ্ট যে অষ্টম সংসদের নির্বাচনে সব দলের সব জোটের রাজনৈতিক নেতাদের সুনির্দিষ্ট কিছু অঙ্গীকার ছিল। সম্পদের বিবরণী দেওয়া, সংসদ বর্জন না করা_এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে মেয়াদ যখন তিন বছর পূর্ণ হলো তখন থেকে আমরা এ গবেষণায় হাত দিয়েছি। আমরা সংসদ সদস্যদের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে চেষ্টা করেছি। সেটা হলো, তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার বিপরীতে কী ধরনের ভূমিকা তাঁরা রেখেছেন বা রাখছেন।

কালের কণ্ঠ : অসংখ্য ধন্যবাদ কালের কণ্ঠের পক্ষ থেকে।

ইফতেখারুজ্জামান : আপনাকেও ধন্যবাদ।

লিঙ্কঃ

সাক্ষাতকারটি ১৮ ডিসেম্বর, ২০১২, দৈনিকতে প্রকাশিত হয়