• header_en
  • header_bn

 

Corruption increases poverty and injustice. Let's fight it together...now

 

ASK, TIB, MJ statement on Ramu incidents

কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপর ঘটে যাওয়া বর্বরোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন প্রতিনিধিরা ৯ অক্টোবর, ২০১২ সরেজমিন ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন, ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি উপাসনালয়সহ প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় নাগরিকদের নিকট থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। অনাকাঙ্খিত এই অমানবিক ঘটনার সূত্রপাত এবং বর্তমান পরিস্থিতি সাংবাদিক বন্ধুদের মাধ্যমে দেশবাসীকে অবহিত করাটা আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি। সে উপলব্ধি থেকেই আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা,

মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের যে স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম তার ব্যাত্যয় আমরা লক্ষ্য করে চলেছি প্রায় সময়েই। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে যখন দেশে উগ্রবাদ ও মৌলবাদ দমনে উলেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে ঠিক সেই সময়ে রামু, উখিয়া ও টেকনাফে ঘটে যাওয়া ঘটনা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। আমাদের তথ্যানুসন্ধানে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে ভাংচুর, লুঠতরাজ, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আমরা লজ্জিত, ব্যথিত এবং ক্ষুব্ধ।

আমরা উদ্বিগ্ন এই ভেবে যে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকেই যখন ধর্মান্ধ ষড়যন্ত্রকারীরা সভা ও মিছিল করছিল তখন স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তখন আইন শৃংখলা বাহিনী এবং জনপ্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কিংবা ঘটনার ব্যাপকতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও নিরপরাধজনগোষ্ঠীর উপর নিষ্ঠুর আক্রমণ, লুঠতরাজ, অগ্নিসংযোগের ঘটনা যখন ঘটে তখন আইন শৃংখলা বাহিনী ও প্রশাসনের কি ভূমিকা ছিল সেটা আজকে প্রশ্নবিদ্ধ। এ ধরণের নৃসংসতা ও ভয়াবহতা আকস্মিক কোন ঘটনা নয়, এটা ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। এই হামলা, লুঠতরাজ ও অগ্নি সংযোগ শুধু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপরই নয়, এ ঘটনা আমাদের জাতিসত্ত্বার উপর আঘাত।

সাংবাদিক বন্ধুরা,

প্রাচীন বৌদ্ধ উপাসনালয়ের অমূল্য সম্পদগুলো লুণ্ঠন করা হয়েছে। আগুনে পোড়ানো হয়েছে শত শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে লুঠতরাজ তাদের মনোবলকে ভেঙ্গে দিয়েছে। চরম নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। এতদঞ্চলে শত বছরের লালিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের যে ইতিহাস, সেখানে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা মনে করি, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপর উলেখিত নৃশংস আক্রমনের ফলে যে আস্থাহীনাতার সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণে সংখ্যাগরিষ্ঠ স্থানীয় জনসাধারণকেই এগিয়ে আসতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে, তাদেরকে সাহস যোগাতে হবে, সামাজিক সমস্ত কর্মকান্ডে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

সাংবাদিক বন্ধুরা,

গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বলতে চাই, ঘটনা পরবর্তী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রীর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আমরা ঘটনার প্রতিকার এবং প্রকৃত দোষীদেরকে চিহ্নিত করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ আশা করেছিলাম। অথচ মন্ত্রী মহোদয় কক্সবাজার ছেড়ে যাওয়ার পরপরই উখিয়া উপজেলার একাধিক জায়গায় বৌদ্ধ মন্দিরে অগ্নি সংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।

এ পর্যন্ত লুণ্ঠিত ঐতিহাসিক ও অমূল্য সম্পদগুলোর একটিও উদ্ধার হয়নি। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাগুলোর কোন সন্তোষ জনক অগ্রগতিও হয়নি।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে আমরা মনে করি। তবে সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে একে অপরকে দোষারোপ করার যে প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করছি তাতে আমরা আশংকা করছি, এর ফলে প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের যে সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে তা ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে অনাস্থা ও নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিচ্ছে। অবিলম্বে এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য সকল রাজনৈতিক পক্ষকে অনুরোধ করছি।

সাংবাদিক বন্ধুগণ, আমাদের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত দাবীসমূহের প্রতি আপনাদের মাধ্যমে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

  • বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা।

  • আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও জনপ্রশাসনের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা প্রমানিত হলে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

  • ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তাসহ সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও সম্প্রীতি পূণঃ প্রতিষ্ঠা করা।

  • প্রাথমিক ভাবে ত্রাণ হিসাবে প্রদত্ত অর্থ সহায়তা প্রশংসনীয়, তবে অনতিবিলম্বে ক্ষতির যথাযথ মাত্রা নিরূপন করে ক্ষতিগ্রস্থদের পরিপূর্ণ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

  • লুণ্ঠনকৃত ধর্মীয় পুরার্কীতি উদ্ধার ও সকল ধর্মীয় স্থাপনাগুলো অনতিবিলম্বে পূণরায় নির্মান করা।

 

. হামিদা হোসেন

চেয়ারপার্সন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)

 

এড. সুলতানা কামাল

নির্বাহী পরিচালক, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)

 

. ইফতেখারুজ্জামান

নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)

 

রীনা রায়

পরিচালক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন