জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

প্রেক্ষাপট
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে পৃথিবীর যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন তার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। বাংলাদেশের উনড়বয়ন, মানুষের জীবন-জীবিকা, আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা এবং দারিদ্র বিমোচন তথা সার্বিকভাবে নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের প্রতি অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসাবে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্লাইমেট চেঞ্জ ভালন্যারাবিলিটি ইনডেক্স (সিসিভিআই) ২০১১ অনুসারে, ১৭০টি দেশের মধ্যে আগামী ৩০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি। অধিকন্তু, আইপিসিসি’র ৪র্থ রিপোর্ট মতে, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত ১ মিলিয়ন জনগোষ্ঠী ২০২০ সালের মধ্যে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।

এই বিরাট ঝুঁকির প্রেক্ষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশলপত্র এবং কর্মপরিকল্পনা (বিসিসিএসএপি) ২০০৯, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল আইন ২০০৯ প্রণয়ন করেছে। বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় রাজস্ব বাজেটের আওতায় ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড’ (বিসিসিটিএফ) গঠন করা হয়েছে। একইসাথে উনড়বয়ন সহযোগী দেশসমূহ - যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেন এবং সুইজারল্যান্ড এর আর্থিক সহায়তায় ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্স ফান্ড’ (বিসিসিআরএফ) গঠন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে ইউএনএফসিসিসি (UNFCCC) এর তত্ত্বাবধানে ১৯৯২ সালে রিওডি জেনেরিওতে ‘বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয় এবং দূষণকারী দেশসমূহ ক্ষতিপূরণ হিসেবে উনড়বয়নশীল দেশগুলোকে অর্থিক সহায়তা প্রদানে সম্মত হয়। জলবায়ু অর্থায়নের যৌক্তিকতার পেছনে ‘‘দূষণকারী কর্তৃক পরিশোধ নীতি” (Polluters Pay Principle) তত্ত্ব অবদান রেখেছে। ১৯৯৭ সাল হতে ২০০৭ সালের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে জলবায়ু অর্থায়নের কথা বলা হলেও সুনির্দিষ্ট কোন বৈশ্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নি২। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে কোপেনহেগেন সম্মেলনে উনড়বত দেশসমূহ ‘নতুন এবং অতিরিক্ত’ তহবিল হিসেবে ‘ফার্স্ট স্টার্ট তহবিল’ এর মাধ্যমে ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সময়ে ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের সম্মিলিত অঙ্গীকার এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থায়নের জন্য বিভিনড়ব উৎস থেকে ২০২০ পর্যন্ত প্রতিবছর আরও ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের অঙ্গীকার করেছে। গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনকারী শীর্ষ ৩৯টি ধনী দেশ, যারা এ্যানেক্স-১ দেশ হিসেবে চিহ্নিত, প্রদত্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ মূলত: জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজন, প্রশমন এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে। বর্তমানে ইউএনএফসিসিসি (UNFCCC) এর আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কার্যμম পরিচালনার জন্য তহবিল তৈরির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহে তহবিল প্রদান করা হচ্ছে যদিও অর্থসমূহের উৎস, লক্ষ্য ও ব্যবহারের ধরণ ভিনড়ব।

[Download: Working Paper] [Doc] | [PDF] | Bangla